বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৫ মার্চ ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ: এক নজরে হামলার ২৬তম দিন


US Israel attack on Iran

এক নজরে হামলার ২৬তম দিন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ২৬তম দিনে গড়িয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের আলোচনা বাড়লেও একই সঙ্গে হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।

ইরানে পরিস্থিতি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক এক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। পূর্ব তেহরানে বিস্ফোরণে একটি স্কুলসহ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আলোচনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য সামনে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরান নাকি ভবিষ্যতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তবে ইরান বরাবরই বলছে, তাদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নেই। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ২০০৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছিলেন।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতায় আছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসীম মুনির।

কূটনৈতিক তৎপরতা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, চলমান যুদ্ধ বন্ধে তারা আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং উই বলেছেন, যুদ্ধের চেয়ে আলোচনা সবসময় ভালো।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো ইরানকে আন্তরিকভাবে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগে, তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একাধিক ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে, যেখানে রাস তানুরা, গাওয়ার ও আবকাইক-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রয়েছে।

বাহরাইনে ইরানি হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা এক মরোক্কান নাগরিক নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত একটি বড় উপহার পেয়েছেন, যা সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৩,০০০ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।

একই সঙ্গে, বৈশ্বিক জ্বালানি চাপে ইরানি তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, যদিও অর্থনীতিবিদ স্টিভ হাংক সতর্ক করেছেন এতে নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার দুর্বলতা তৈরি হতে পারে।

ইসরায়েলে পরিস্থিতি
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান দেশটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ৩০ কিলোমিটার এলাকা নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানোন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইসরায়েল অংশ নিচ্ছে না এবং সামরিক অভিযান চলবে।

লেবানন ও ইরাকে সংঘাত
চলমান সংঘাতে লেবাননে ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৭২ জন নিহত এবং ২,৯৬৬ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং দক্ষিণ লেবানন ও গোলান মালভূমিতে রকেট, ড্রোন ও আর্টিলারি ব্যবহার করছে।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। আনবারে একটি হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে পাল্টা জবাবের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ পণ্য যেমন হিলিয়াম ও সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাস্তার আলো বন্ধ রাখছে, আর ফিলিপাইন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

সামগ্রিক চিত্র
যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। আঞ্চলিক সংঘাত ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।