বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক শিক্ষা ২৬ মার্চ ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

মা ও ভাগনের সঙ্গে নিভে গেল জাবির মেধাবী বিতার্কিক রাইয়ানের প্রাণ


Accident

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় নিভে গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ানের (২৪) জীবনের আলো। ঈদের ছুটি শেষে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় ফেরার পথে পদ্মার অতল গহ্বরে হারিয়ে যান এই স্বপ্নবাজ তরুণ। এই দুর্ঘটনায় রাইয়ানের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তার মা রেহানা আক্তার এবং মাত্র আট বছর বয়সী ভাগনে তাজবিদ।

অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন রাইয়ানের বোন, পেশায় চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান খান, তবে তিনি হারিয়েছেন তার মা, ভাই ও সন্তানকে।

আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান ছিলেন জাবির অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। মেধা ও মননের দীপ্তিতে তিনি সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। স্কুলজীবন থেকেই বিতর্কচর্চায় জড়িত রাইয়ান জাতীয় পর্যায়েও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি বিতর্ক আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কেবল পড়াশোনাই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাতেও তিনি ছিলেন অগ্রগামী। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার এক নাম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসে বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এই পরিবারটি আবার এমন নির্মম আঘাতের শিকার হলো। ঈদের আনন্দঘন সময় শেষে তারা সবাই মিলে ঢাকায় ফিরছিলেন। দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি পদ্মায় তলিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। রাইয়ানের বোন ডা. নুসরাত জাহান খান কোনোমতে বেঁচে ফিরলেও তার চোখের সামনেই হারিয়ে যান মা, ভাই ও সন্তান।

রাইয়ানের অকাল মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা এই মেধাবী ছাত্রের অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না। রাজিয়া নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “ক্লাস ফাইভ থেকে আমরা একসাথে বিতর্ক করেছি। রাইয়ান ভাই সবসময় বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন। এমন একজন মানুষকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ।” রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, “রাইয়ান ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও সম্ভাবনাময়। সে অর্থনীতিবিদ হতে চেয়েছিল। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে খুবই সক্রিয় ছিল। তার এই মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নই চুরমার করে দেয়নি, বরং পুরো সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। রাইয়ানের মতো আরও অনেকেই তাদের অদেখা ভবিষ্যৎ ও অসমাপ্ত স্বপ্ন নিয়ে হারিয়ে গেছেন পদ্মার বুকে। স্থানীয়রা এই দুর্ঘটনাকে অব্যবস্থাপনার নির্মম ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা চান না যে, আর কোনো রাইয়ানের স্বপ্ন এভাবে অকালে নিভে যাক।