বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রাজশাহীতে আইসিইউ সংকটে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু


raj

হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার জন্য হাহাকার বেড়েই চলেছে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার জন্য হাহাকার বেড়েই চলেছে। গত ১১ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩৩টি শিশু মারা গেছে। শয্যা খালি না থাকায় গুরুতর অসুস্থ এসব শিশুকে সময়মতো নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে শিশু মারা যাওয়ার কয়েক দিন পর আইসিইউ থেকে ডাক আসছে পরিবারের কাছে।

আড়াই বছরের শিশু নুসাইবা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তার আইসিইউর সিরিয়াল ছিল ২২ নম্বরে। কিন্তু সেই সিরিয়াল আসার আগেই গত ১২ মার্চ শিশুটি মারা যায়। মর্মান্তিক বিষয় হলো, মৃত্যুর চার দিন পর আইসিইউ থেকে ফোন করে জানানো হয় যে নুসাইবার সিরিয়াল এসেছে। নুসাইবার মতো একই ভাগ্য বরণ করেছে তেরখাদিয়া এলাকার শিশু নাহিদও। আইসিইউর পরামর্শ দেওয়ার তিন দিন পর সে মারা যায় কিন্তু শয্যা মেলেনি।

রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ৩৮ জন শিশু আইসিইউর জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। ইনচার্জের মতে, সময়মতো সেবা পেলে এই ৩৩টি শিশু বেঁচেও যেতে পারত।

রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের মধ্যে এটিই একমাত্র বিশেষায়িত ১২ শয্যার শিশু আইসিইউ, যা হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলছে। তবে সরকারি অনুমোদন না থাকায় ২০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ইউনিটটি চালু করা যাচ্ছে না। রামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম জানান, বর্তমানে যে ৪০ শয্যার আইসিইউ কমপ্লেক্স চলছে, তার জন্য সরকার কোনো জনবল নিয়োগ দেয়নি।

অন্যদিকে, নগরীর লক্ষ্মীপুরে ২০০ শয্যার একটি শিশু হাসপাতাল নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হলেও তা এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। সেখানে ১০ শয্যার আধুনিক আইসিইউ পড়ে থাকলেও সদিচ্ছা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে তা কাজে আসছে না।

শুধু রাজশাহী নয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আইসিইউর জন্য দৈনিক ১৫০টি আবেদনের বিপরীতে মাত্র ২০-৩০ জনকে ভর্তি করা সম্ভব হয়। জনবল সংকট ও নষ্ট যন্ত্রপাতির কারণে এই বিশেষায়িত সেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।