
ভাষণকে বিশ্লেষকরা আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন
ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সময় রাতে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এ ভাষণকে বিশ্লেষকরা আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন।
হোয়াইট হাউসের ঘোষণার পর ধারণা করা হয়েছিল, ট্রাম্প যুদ্ধের ইতি টানা বা নতুন করে সামরিক অভিযান বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেবেন। তবে প্রায় ২০ মিনিটের বক্তব্যে তিনি মূলত আগের অবস্থানগুলোই পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ প্রয়োজনীয়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয়ের পথে এবং খুব শিগগিরই এটি শেষ হবে। তবে কীভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে বা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার রূপরেখা কী—সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিরসহকারী অধ্যাপক সিনা আজাদী, আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমি ভাষণে নতুন কিছু খুঁজে পাইনি। এটি আগের বক্তব্যগুলোর পুনরাবৃত্তি।’
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন কুইন্সি ইন্সটিটিউটের নির্বাহী সহসভাপতি ত্রিতা পার্সি। তার ভাষায়, ‘গত এক মাসে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যগুলোর সংক্ষিপ্তসারই ছিল এই ভাষণ।’
ভাষণটিকে বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের জনমতকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতার পর বিদেশে নতুন সংঘাতে মার্কিন জনগণের আগ্রহ কমে গেছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে রয়েছে এবং সেটি ব্যবহার করতে পারে, তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে এর আগে তিনি নিজেই দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। এমনকি তার গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গাবার্ড কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমছে। বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সি বলেন, ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক ঘাঁটিতেও এই যুদ্ধের প্রতি আগ্রহ কমে আসছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে।
যদিও গত কয়েক দিনে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই ভাষণে তিনি কূটনীতি বা আলোচনার বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করেননি। বিষয়টি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ভাষণে ট্রাম্প বারবার দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় অর্জন করেছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। তবে তার বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই ইরান ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
এদিকে ইরান হুরমুজ প্রণালি অবরোধ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করলেও ট্রাম্প এটিকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভাষণের শেষদিকে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণ নতুন কোনো কৌশল না এনে বরং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য সমাধান এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প











































