
ইরানের সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভ্রান্ত’ এবং ‘অহংকারী ও ভিত্তিহীন হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ শেষ করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে রাজি না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবারের নির্ধারিত সময়সীমাই চূড়ান্ত। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে ইরানের প্রস্তাব ‘গুরুত্বপূর্ণ হলেও যথেষ্ট নয়।’
এর আগে রোববার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না করে, তাহলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোর ওপর হামলার নির্দেশ দেবেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেন, চুক্তিতে না এলে দেশটিকে ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভ্রান্ত’ এবং ‘অহংকারী ও ভিত্তিহীন হুমকি’ বলে উল্লেখ করেছে।
এদদিকে গতকাল সোমবার, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায় এবং এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তেহরান ইসলামাবাদের মাধ্যমে তাদের জবাব পাঠিয়েছে। সেখানে ইরান এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার দাবি জানিয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে ১০টি ধারা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন।
কায়রোতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান মোজতবা ফেরদৌসি পুর বলেন, ‘আমরা শুধু যুদ্ধবিরতি চাই না, আমরা চাই যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি এবং ভবিষ্যতে আর আক্রান্ত না হওয়ার নিশ্চয়তা।’
এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি বিবেচনায় রয়েছে, তবে ট্রাম্প এখনো এতে সম্মতি দেননি এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েল ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
এই গ্যাসক্ষেত্রটি ইরানের জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প









































