সোমবার । মে ৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক ফিচার ৪ মে ২০২৬, ৭:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্যতিক্রমী ‘ঘুম প্রতিযোগিতা’, ৮০ বছরের বৃদ্ধের বাজিমাত


sleeping-competition

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক সমাজের কর্মব্যস্ততা আর অনিদ্রার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী ‘পাওয়ার ন্যাপ’ বা দ্রুত ঘুমের প্রতিযোগিতা। সিউলের বিখ্যাত হন নদীর তীরে আয়োজিত এই লড়াইয়ে কয়েকশ তরুণকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। তার এই অভাবনীয় সাফল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং প্রচণ্ড মানসিক চাপের জন্য পরিচিত। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার গুরুত্ব তুলে ধরতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই অভিনব প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল এটি দেখা—কার মস্তিষ্ক এবং শরীর সবচেয়ে দ্রুত ও গভীরভাবে বিশ্রাম নিতে সক্ষম।

প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। কে কত দ্রুত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে পারেন, তা পর্যবেক্ষণের জন্য প্রত্যেকের শরীরে একটি বিশেষ ব্যান্ড লাগানো হয়। এই ব্যান্ডের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের হার্টরেট বা হৃদস্পন্দন পর্যবেক্ষণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, যার হৃদস্পন্দন সবচেয়ে স্থির, শান্ত এবং স্থিতিশীল থাকবে, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন শত শত তরুণ এবং কর্মজীবী মানুষ। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বিচারকদের মুগ্ধ করেন। তিনি প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে যান এবং পুরো সময় অত্যন্ত শান্ত শারীরিক অবস্থা বজায় রাখেন। তার এই তাৎক্ষণিক শিথিল হওয়ার ক্ষমতা দেখে দর্শনার্থী ও বিচারকরা রীতিমতো বিস্মিত। অনেকেই একে দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা এবং মানসিক স্থিরতার ফল হিসেবে দেখছেন।

প্রতিযোগিতাটি ইন্টারনেটে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলছেন, ডিজিটাল ডিভাইস আর কাজের চাপে মানুষ যখন ক্লান্ত, সেখানে এমন আয়োজন মানুষকে আবার ‘থামতে’ শেখাবে। আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা চেয়েছিলাম মানুষকে বোঝাতে যে বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক অধিকার। সঠিক মাত্রায় ঘুম ও বিশ্রাম কাজের গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।’

দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম অনিদ্রাপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এই ‘পাওয়ার ন্যাপ’ প্রতিযোগিতা সেই কঠিন বাস্তবতাকে একটু হালকা মেজাজে পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা মাত্র। যেখানে গতির চেয়ে বিরতি নেওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।