
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন ও বিজয় থালাপতি
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরালার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল গণনা শুরু হতেই এই নির্বাচনকে ‘রেকর্ডের নির্বাচন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই তিন রাজ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলগুলোর নেতারা টানা আরেকটি মেয়াদ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়ছেন এবং নিজেদের রাজ্যে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করছেন।
যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন এবং প্রথমবারের চ্যালেঞ্জার বিজয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। একইসঙ্গে আসাম ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও ভোট গণনা চলছে, যা ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর একদিনে সবচেয়ে বড় ফল ঘোষণা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দিক দিকে আলাদা
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা সিপিআই(এম)-কে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসেন। এরপর তিনি টানা আরও দুইবার নির্বাচনে জয়ী হন।
যদি ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তিনি জয় পান, তবে তিনি টানা চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন—যা ভারতের বড় কোনো রাজ্যে কোনো নারী মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা হবে।বর্তমানে তিনি টানা তিনবার জয়ের রেকর্ডে প্রাক্তন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত এবং তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার সঙ্গে সমান অবস্থানে রয়েছেন।
বিজয় গড়তে পারেন ইতিহাস
দক্ষিণ ভারতে, অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় থালাপতি প্রথমবারের মতো নিজের দল নিয়ে বড় লড়াইয়ে নেমেছেন। তিনি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদি তিনি প্রথম নির্বাচনে নিজের দলকে ক্ষমতায় আনতে পারেন, তবে এটি একটি বড় সাফল্য হবে। অতীতে এম জি রামচন্দ্রন ও জয়ললিতার মতো অভিনেতারা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু তারা প্রতিষ্ঠিত দলের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছিলেন।
বিজয় যদি নতুন দল গড়ে সরাসরি ক্ষমতায় আসেন, তবে তিনি সেই বিরল নেতাদের মধ্যে পড়বেন, যারা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে দ্রুত রাজনৈতিক ক্ষমতায় রূপান্তর করতে পেরেছেন।
পিনারাই বিজয়নের জন্য কেন এটি ‘রেকর্ডের নির্বাচন’
কেরালায় সিপিআই(এম) নেতা পিনারাই বিজয়নের সম্ভাব্য জয়ও ইতিহাস গড়তে পারে। কেরালায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় প্রতি নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়ে এসেছে—বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে।
২০২১ সালে পিনারাই বিজয়ন সেই ধারা ভেঙে টানা দ্বিতীয়বার জয় পান। যদি এবারও তিনি জয়ী হন, তবে তা হবে এলডিএফের টানা তৃতীয় জয়—যা কেরালার আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন।






































