
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
জানা গেছে, ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আশ্বাস ও বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ফিফা ও ইরান ফুটবল কর্তৃপক্ষের মধ্যকার বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে হামলার পর থেকেই দলটির অংশগ্রহণ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়। ইস্যুটি আরও জটিল হয় চলতি মাসের শুরুতে। ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি পাননি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ।
তার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এই প্রবেশ জটিলতা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—দুই দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং এই বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশ না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এ সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দল ও তাদের প্রতিনিধিদলের আয়োজক দেশে প্রবেশ নিশ্চিত করা ফিফার দায়িত্ব।
তার ভাষ্য, ইরান মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে; তাই খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ফেডারেশন কর্মকর্তা বা প্রয়োজনীয় প্রতিনিধিদের প্রবেশে বাধা বিশ্বকাপের উদ্দেশ্য ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
রয়টার্সের সূত্র বলেছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দল যাতে নিরাপদ পরিবেশে প্রতিযোগিতা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ফিফা। ফিফার লক্ষ্য, কোনো দল যেন বৈষম্য বা বিধিনিষেধের কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়।
ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত ভেন্যুতেই হবে। এর আগে তিনি একাধিকবার বলেছেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
এদিকে দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের সংঘাত সত্ত্বেও ইরানের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে তার আপত্তি নেই। তবে দল, কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে বাস্তব জটিলতা এখনো আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
জানা গেছে, আগামী সোমবার তেহরান ছেড়ে তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্পে যাবে ইরান দল। এরপর জুনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুসনে কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নিজেদের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার কথা তাদের। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। তবে ফিফার বৈঠক থেকে কি সিদ্ধান্ত আসে সেটাই দেখার বিষয়।











































