
ছবি: সংগৃহীত
চলমান ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় সামরিক ক্ষেত্রে একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ইসরায়েল। দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র ক্রয়ের লক্ষ্যে তারা একটি বিশেষ ‘যৌথ প্রতিরক্ষা তহবিল’ গঠন করেছে।
বর্তমান ও সাবেক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় দুই দেশ মূলত ‘যৌথভাবে সমরাস্ত্র ও ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা’ ক্রয় এবং তৈরি করবে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিশাল অঙ্কের অর্থায়ন করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
তহবিলটির বিষয়ে অবগত বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই যৌথ উদ্যোগে দুই দেশেরই স্বার্থ রয়েছে। ইসরায়েলের কাছে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি থাকলেও এই মুহূর্তে তাদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে প্রচুর আর্থিক সম্পদ থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। ফলে এই যৌথ তহবিল দুই দেশের জন্যই সমরাস্ত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরান যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় এই সমরাস্ত্র ক্রয়ের চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পায়। ২০২৬ সালে আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ২৭ বিলিয়ন (২,৭০০ কোটি) ডলার, যা তাদের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ। এই বিপুল বাজেটের একটি অংশ এখন ইসরায়েলের সাথে যৌথ সমরাস্ত্র তৈরিতে ব্যয় হবে।
ইরানের হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরব যেখানে পাকিস্তান বা তুরস্কের মতো দেশগুলোর সাথে আঞ্চলিক সামরিক জোট গঠন করছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে। সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষার জন্য তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য প্রতিবেশীদের চেয়ে ইসরায়েলের সাথে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব ও যৌথ তহবিল গঠনকেই বেশি কার্যকর মনে করছে।











































