রবিবার । মে ৩১, ২০২৬
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ৩১ মে ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

শিশুদের সুস্থ ও সুখী রাখতে শারীরিক সক্রিয়তা কেন জরুরি, জানালেন গবেষকরা


বর্তমানে প্রতি ১০ জন শিশু ও কিশোরের মধ্যে একজন স্থূলতায় ভুগছে

বর্তমান সময়ে আগের তুলনায় শিশু-কিশোররা শারীরিকভাবে অনেক কম সক্রিয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে আশার কথা হলো, গবেষণায় এমন কিছু কার্যকর উপায় উঠে এসেছে, যা শিশুদের আরও বেশি নড়াচড়া ও খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি ১০ জন শিশু ও কিশোরের মধ্যে একজন স্থূলতায় ভুগছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং খেলাধুলায় কম অংশগ্রহণ এর অন্যতম কারণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিশুই এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তারা বড় হয়েও বেশি সক্রিয় জীবনযাপন করে। এমনকি বার্ধক্যেও তাদের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকে এবং চিকিৎসকের কাছে কম যেতে হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শারীরিক কার্যক্রম শুধু শরীরের জন্য নয়, মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম শিশুদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং শেখার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুল শেষে নিয়মিত ব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থূল শিশুদের জ্ঞানীয় দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। তাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বিও কমেছে, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

গবেষকরা মনে করেন, শিশুদের সক্রিয় করতে খেলাধুলার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে আরও বেশি নড়াচড়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। যেমন—ক্লাসে দাঁড়িয়ে উত্তর দেওয়া, বিরতির সময় খেলাধুলা করা, হাঁটা বা সাইকেল চালানো, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মুক্তভাবে খেলায় অংশ নেওয়া।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা স্কুলগুলোর ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা নড়াচড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের সুস্থতা বাড়বে এবং খেলাধুলার খরচ নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগও কমবে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অভিভাবকদের উৎসাহ শিশুদের শারীরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব পরিবারের বাবা-মা নিজেরাও সক্রিয় থাকেন বা সন্তানদের সঙ্গে হাঁটাহাঁটি, দৌড়ানো কিংবা সাইকেল চালানোর মতো কাজ করেন, তাদের সন্তানরাও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের নড়াচড়াই গুরুত্বপূর্ণ। গাছে চড়া, মাঠে দৌড়ানো, লুকোচুরি খেলা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ছুটোছুটি—এসবও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।

তাদের ভাষায়, শিশুদের সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও আনন্দময়ভাবে বেড়ে উঠতে চাইলে শুধু সংগঠিত খেলাধুলা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি সক্রিয় মুহূর্তকেই মূল্য দিতে হবে।