বুধবার । জুন ৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৩ জুন ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

শাহজালালে ১৫০ হাজির লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ, সত্য নয় দাবি বিমানের


shahjalal

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৫০ জন হজযাত্রীর লাগেজ কেটে মালামাল চুরির একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে, এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার (৩ জুন) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের একটি বিস্তারিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়ে বিমানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করেন।

এর আগে, আজ বুধবার মোস্তফা কামাল পলাশ নামের এক হজযাত্রীর ছেলে ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন যে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০৪ যোগে জেদ্দা থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী দেশে ফেরেন। ঢাকা অবতরণের পর প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ভেতর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

পোস্টের সঙ্গে লাগেজ কাটার একটি ছবিও যুক্ত করে এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিমান ও বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং টিম তাৎক্ষণিকভাবে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পরিচালনা করে।

বিমানের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবতরণের পর রাত ২টা ৫২ মিনিটে চেক অন হয়। উড়োজাহাজের হোল্ড থেকে কনটেইনার ও ট্রলির মাধ্যমে লাগেজগুলো যখন ব্যাগেজ ডেলিভারি এরিয়াতে আনা হয়, তখন পুরো পথটি সিকিউরিটি গার্ডদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ছিল। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে মাত্র ৫৯ মিনিটে ফ্লাইটের মোট ৮৩৬ পিস ব্যাগের সবকটি ডেলিভারি বেল্টে দেওয়া সম্পন্ন হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাহাজ থেকে ব্যাগ নামানোর সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের গায়ে থাকা ‘বডি অন ক্যামেরা’ এবং বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সোর্টিং এরিয়ার সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। বাস্তবে মাত্র ৫ থেকে 6 জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের নিকট মৌখিকভাবে জানান, তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি।

আক্রান্ত যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উক্ত লাগেজগুলোর ভেতরে জমজমের পানি, খেজুর এবং বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী (শ্যাম্পু ও লোশন) ছিল এবং কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যায়নি। তবে একজন যাত্রী তাঁর ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করলেও বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের অনুরোধ সত্ত্বেও ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ ডেস্কে কোনো লিখিত অভিযোগ না করেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।