বুধবার । জুন ৩, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ৩ জুন ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার

টিকিট কেটেও দেশে ফেরা হলো না নোয়াখালীর ফরহাদের


farhad

ছবি: সংগৃহীত

মানের টিকিট কাটা হয়েছিল, সম্পন্ন হয়েছিল দীর্ঘদিন পর প্রিয় মাতৃভূমি আর চেনা মানুষদের বুকে জড়িয়ে ধরার সব প্রস্তুতি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাঁধ সাধল মরণব্যাধি ক্যান্সার। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফরহাদ হোসেন আর জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারলেন না; ফিরছে শুধু তাঁর নিথর মরদেহ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে হঠাৎ করেই ফরহাদের শরীরে ক্যান্সারের জীবাণু ধরা পড়ে। এরপর থেকেই নিউইয়র্কের একটি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালে তাঁর নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েক দফায় জটিল অস্ত্রোপচার ও থেরাপিও দেওয়া হয়। মাঝখানে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও গত কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে যেতে থাকে। দীর্ঘ এক বছর চিকিৎসা নিয়ে এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্বজনরা জানান, সম্প্রতি শারীরিক অবস্থা কিছুটা থিতু হলে তিনি দেশে আসার তীব্র আকুতি থেকে ফ্লাইট বুকিং করেছিলেন। কিন্তু রওনা হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে নিউইয়র্কের স্থানীয় একটি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।

মরহুম ফরহাদ হোসেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মিয়ার বাড়ির মৃত মাহফুজুর রহমানের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো। তিনি বসুরহাট এ.এইচ.সি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিক মো. গিয়াস উদ্দিন রুবেলের মেঝো ভাই। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকতেন পরোপকারী এই মানুষটি। তাঁর এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কমিউনিটি এবং দেশের গ্রামের বাড়িতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্কে প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর যাবতীয় আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মরহুমের মরদেহ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আগামীকাল সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।