শুক্রবার । জুন ৫, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ৫ জুন ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভারতকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে মরিয়া বাংলাদেশ


bangladesh-india

ছবি: সংগৃহীত

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগামীকাল শনিবার (৬ জুন) মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই শক্তিশালী দল বাংলাদেশ ও ভারত। টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আগের টানা দুটি ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের সরাসরি সাক্ষী ছিলেন তারকা মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা। তবে এবার সম্পূর্ণ নতুন এক ভূমিকায়, প্রথমবারের মতো অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে ফাইনালে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি।

ভারতের গোয়ায় আইটিসি গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত ফাইনাল-পূর্ব আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মারিয়ার কণ্ঠে ঝরে পড়েছে আকাশছোঁয়া আত্মবিশ্বাস। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে বাড়তি কোনো চাপ না নিয়ে, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেই মাঠ থেকে হ্যাটট্রিক শিরোপা নিয়ে ফিরতে চান এই টাইগ্রেস অধিনায়ক।

সংবাদ সম্মেলন শেষে শিরোপার অফিশিয়াল ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনেও মারিয়ার চোখেমুখে ছিল সেই আত্মবিশ্বাসের স্পষ্ট ছাপ। সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালকে হারানোর পর দলের ভেতরের ইতিবাচক পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিটনেস নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি। দলের বর্তমান অবস্থা ও মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কে মারিয়া মান্দা বলেন, ‘আমাদের দলের সব খেলোয়াড় এখন সম্পূর্ণ ফিট আছেন। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও আমরা যেভাবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছি, সেটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। ফাইনালে ওঠার কারণে পুরো দল মানসিকভাবে দারুণ উজ্জীবিত অবস্থায় রয়েছে।’

আগের দুটি সাফজয়ী দলের অভিজ্ঞ সদস্য হলেও এবার অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব থাকায় নিজের ওপর বাড়তি কোনো চাপ তৈরি করতে দিচ্ছেন না মারিয়া। বরং এই অনন্য সুযোগটিকে ট্রফি জয়ের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া হয়ে আছেন তিনি।

বাংলাদেশ অধিনায়ক দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘ক্যাপ্টেন এবং খেলোয়াড়—উভয় হিসেবেই মনের ভেতর এই দারুণ সুযোগটি কাজে লাগানোর তীব্র তাগিদ কাজ করছে। টানা তৃতীয়বারের মতো আমাদের সামনে এমন সুযোগ এসেছে, যা সবসময় আসে না। দেশবাসীকে একটি দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিতে আমরা মাঠে আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করব।’

গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে হার কিংবা একই হোটেলে দুই দলের অবস্থান—এসবের কোনো কিছুই দলের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন মারিয়া। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাইরের কোনো সমীকরণ নয়, তাদের পুরো মনোযোগ এখন কেবলই মাঠের ৯০ মিনিটে।

প্রতিপক্ষের দর্শকদের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে মারিয়া আরও বলেন, ‘গত সাফে আমরা যখন নেপালের মাটিতে খেলেছিলাম, তখনও স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষের প্রচুর দর্শক ছিল এবং অনেক চাপ ছিল। আমরা সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। তাই দর্শক বা মাঠের বাইরের কোনো কিছু নিয়ে আমরা একদমই ভাবছি না।’

ভারতকে সমীহ করলেও নিজেদের শক্তিতে ভরসা রাখছেন টাইগ্রেস অধিনায়ক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই জানি ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী দল, তবে আমরাও তাদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার জন্য শতভাগ প্রস্তুত। যেকোনো পরিস্থিতি মাঠেই মোকাবিলা করার মতো মানসিকতা ও সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।’

এখন দেখার বিষয়, আগামীকালকের হাইভোল্টেজ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে মারিয়া মান্দারা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে হ্যাটট্রিক ট্রফি জয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে পারেন কি না।

বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস