
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তির আওতায় মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এ চুক্তি বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এআরটি চুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ, এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি জিসিসি, মারকোসুরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে নতুন বাজার সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মির প্রধান উভয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা আগে ঘটেনি।
এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোর ভাড়া বাবদ সরকারের বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ ব্যয় কমাতে এবং কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশে নিজস্ব চ্যান্সারি ভবন ও কূটনৈতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।











































