
বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। সংস্থাটি জানিয়েছে, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল যতগুলো গোল করবে, ততটি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হবে।
‘গোল ফর গুড’ নামের এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত এলাকার স্কুলে পড়ুয়া কিশোরীদের জন্য মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশ জানিয়েছে, দেশের অনেক স্কুলে এখনো পর্যাপ্ত স্যানিটারি ন্যাপকিনের সুবিধা, গোপনীয়তা ও অবকাঠামো নেই। সামাজিক সংকোচ ও সচেতনতার অভাবের কারণে অনেক কিশোরী মাসিকের সময় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি তিনজন কিশোরীর একজন মাসে অন্তত তিন দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে এবং অনেকেই প্রথম মাসিকের আগে এ বিষয়ে সচেতন থাকে না।
সংস্থাটির কমিউনিকেশনস কো-অর্ডিনেটর প্লাবন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ফুটবলের আবেগকে সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করতেই এই উদ্যোগ। তার ভাষায়, প্রতিটি গোল শুধু মাঠে নয়, কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস ও উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
ক্যাম্পেইন চলবে পুরো বিশ্বকাপজুড়ে। টুর্নামেন্ট শেষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যার ভিত্তিতে কতটি স্কুলে ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করা হবে, তা ঘোষণা করা হবে। স্কুল নির্বাচন করা হবে প্রয়োজন, প্রভাব ও অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশ বিবেচনায়।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, মাসিক স্বাস্থ্য কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় ফুটবল উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে সচেতনতা ও সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি আশা করছে, এই ক্যাম্পেইন আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে কিশোরীদের জন্য পিরিয়ড-বান্ধব স্কুল গড়ে তুলতে উৎসাহিত করবে এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্যে সহায়তা করবে।












































