
ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপের উন্মাদনা মাঠে বসে উপভোগ করার পরিকল্পনা থাকলে শুধু টিকিট থাকলেই হবে না, জানতে হবে স্টেডিয়ামে প্রবেশের নিয়মও। দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকরা ব্যাগ থেকে শুরু করে পানীয়, ইলেকট্রনিকস ও পতাকা—সবকিছুর জন্যই নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।
স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো ক্লিয়ার ব্যাগ নীতি। স্বচ্ছ প্লাস্টিক, ভিনাইল বা পিভিসি দিয়ে তৈরি ব্যাগ বহন করা যাবে, তবে বড় আকারের অস্বচ্ছ ব্যাকপ্যাক বা হ্যান্ডব্যাগ অনুমোদিত নয়। ছোট ওয়ালেট বা ক্লাচ ব্যাগ বহন করা যাবে, যদিও সেটি স্বচ্ছ হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
খাবার ও পানীয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়াকড়ি। একটি নরম প্লাস্টিকের একবার ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল এবং খালি রিফিলযোগ্য পানির বোতল নেওয়া যাবে। শিশুদের জন্য দুধ ও জীবাণুমুক্ত পানি বহনের অনুমতি রয়েছে। তবে ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরল, কাচের বোতল, ক্যান বা যেকোনো ধরনের অ্যালকোহল স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না।
নিরাপত্তার কারণে অস্ত্র, ধারালো বস্তু, আতশবাজি, ফ্লেয়ার, দেশলাই, লাইটার, বড় বাদ্যযন্ত্র, স্পোর্টস গিয়ার, বেলুন, হুইসেল, এয়ার হর্ন, লাউডস্পিকার, সাইকেল, স্কুটার কিংবা বেবি স্ট্রলার বহন নিষিদ্ধ। এমন কোনো বস্তু নেওয়া যাবে না যা ছুড়ে মারা বা অন্যকে আঘাত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশ্বকাপের প্রাণ হিসেবে পরিচিত পতাকা ও ব্যানার বহনেরও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। দলের সমর্থনে সর্বোচ্চ ১৫০ সেন্টিমিটার × ২০০ সেন্টিমিটার আকারের পতাকা বহন করা যাবে। তবে রাজনৈতিক বার্তা, আপত্তিকর স্লোগান বা অন্যের দৃশ্যপটে বাধা সৃষ্টি করে এমন ব্যানার অনুমোদিত হবে না। পতাকার ধাতব বা শক্ত দণ্ড বহন নিষিদ্ধ, যদিও সীমিত দৈর্ঘ্যের নমনীয় প্লাস্টিকের দণ্ড ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।
ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মধ্যে মোবাইল ফোন, ছোট ক্যামেরা এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের একটি পাওয়ার ব্যাংক বহন করা যাবে। তবে সেলফি স্টিক, ট্রাইপড, ভিডিও মাউন্ট, লেজার পয়েন্টার, অতিরিক্ত ব্যাটারির একাধিক সেট এবং পেশাদার সরঞ্জাম নিষিদ্ধ।
স্টেডিয়ামের ভেতরে ধূমপান ও ভ্যাপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদিও সিগারেট বহন করা যেতে পারে, তা ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া অ্যালকোহল বিক্রি নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং একজন দর্শক সর্বোচ্চ দুটি পানীয় কিনতে পারবেন।
বিশ্বকাপের উত্তেজনা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন থাকে, সে লক্ষ্যেই এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাই ম্যাচ দেখতে যাওয়ার আগে কী নেওয়া যাবে আর কী যাবে না, তা জেনে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস













































