
বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক আবুল কাসেম ফজলুল হক। আগামী তিন বছরের জন্য তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আবুল কাসেম ফজলুল হক একাডেমিতে সেলিনা হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
জীবনের চার দশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন ৮৪ বছর বয়সী আবুল কাসেম ফজলুল হক। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটি’র আহ্বায়ক তিনি।
আজ রবিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বরেণ্য এই গবেষক ও বুদ্ধিজীবী জানান, তিনি মৌখিকভাবে জেনেছেন তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজপত্র পাননি। সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সব ঠিক থাকলে সোমবারই তিনি বাংলা একাডেমিতে যোগদান করবেন।
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা কবি পিয়াস মজিদ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারির পর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রবিবার বাংলা একাডেমিতে প্রজ্ঞাপনের কাগজপত্র এসে পৌঁছেছে। যোগদানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলা একাডেমি।
আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমিতে সেলিনা হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। ২০২২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৭ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হক প্রাবন্ধিক, লেখক, গবেষক, ঐতিহাসিক, অনুবাদক, সমাজবিশ্লেষক, সাহিত্য সমালোচক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদ হিসেবে খ্যাতিমান। তার জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে জীবনের চার দশক অধ্যাপনা করেছেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতে সোচ্চার রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক তিনি।
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চিন্তা ও তত্ত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তার রচনা স্বদেশ ভাবনা ও রাজনৈতিক চিন্তায় ঋদ্ধ। প্রগতিপ্রয়াসী মন নিয়ে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন। তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।







































