
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী বাপ্পির বাবা |সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আরিয়ান, বাপ্পি ও উমায়ের—এই তিন শিশু প্রতিদিনের মতোই সোমবার সকালে একসঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীদের স্কুল শেষে চলছিল কোচিংয়ের ক্লাস।
ক্লাস শেষে আবারো ঘরে ফেরার কথা ছিল। ঘরে ফিরেছে তারা কিন্তু এবারের ফেরাটা ভিন্ন। হাশিখুশি মুখগুলো নিথর দেহ হয়ে পৌঁছেছে স্বজনদের কাছে।
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঝরেছে এই তিন শিশুর প্রাণ। তারা ছিল একই বংশের সদস্য এবং দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ এলাকায় পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করত। একসাথে বেড়ে উঠা, স্কুলে যাওয়া আর খেলাধুলার সাথী ছিল তারা। দুর্ঘটনাটিও তাদের আলাদা করেনি—একই ঘটনায় তিনজনই প্রাণ হারায়।
এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। দু’দিন আগেও যাদের হাসি, দৌড়ঝাঁপে মুখর ছিল আঙিনা, সেখানেই আজ তারা পাশাপাশি কবরে শায়িত। পারিবারিক কনিষ্ঠ তিন সদস্যের এমন অকাল বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। চারপাশে এক বিষণ্ন, ভারী নীরবতা। বন্ধু, সহপাঠী আর প্রতিবেশীরাও যেন শোক সইতে না পেরে অশ্রুসিক্ত নয়নে জানায় শেষ বিদায়। সবার মুখেই এক কথা—”এ বিদায় খুব কষ্টের, এই শূন্যতা সহজে মেনে নেওয়া যায় না।”
সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হলেও কাছাকাছি বয়স হওয়ায় আরিয়ান, বাপ্পি ও উমায়ের ছিল একে অপরের বন্ধু, সহপাঠী এবং খেলার সাথী। আরিয়ান ছিল মোহাম্মদ আবু শাহিনের চাচাতো ভাই এবং চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। বাপ্পি ছিল আবু শাহিনের ছেলে এবং তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো। একই ক্লাসের উমায়ের ছিল শাহিনের ভাইয়ের ছেলে। তারা আলাদা তিনটি বাড়িতে থাকলেও একই পরিবারের সদস্য ছিল এবং তাদের মধ্যে ছিল গভীর সখ্য।
ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো একসঙ্গেই স্কুলে গিয়েছিল এই তিনজন। সকাল ১১টায় স্কুল শেষে তারা কোচিংয়ের ক্লাসে অংশ নেয়, যা দুপুর দেড়টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেদিন জোহরের নামাজ শেষে শাহিন তার ছেলে বাপ্পিকে আনতে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন। তার ভাই আরিয়ান ও ভাতিজা উমায়েরও একসঙ্গে ফেরার কথা ছিল।
কিন্তু পথেই তিনি শুনতে পান বিকট আওয়াজ। কিছুটা এগোতেই ধোঁয়ার কুণ্ডুলী দেখে দৌড়ে পৌঁছান স্কুল প্রাঙ্গণে। শাহিন বলেন, “আমার ছেলে যে ক্লাসে পড়ে তার আগের ক্লাসটায় বিমানডা ঢুকছে। দেখে তখনি বুঝছি যে আমার ছেলে আর নাই।” এই কথায় তার অসহায়ত্ব ও মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু হারানোর তীব্র বেদনা প্রকাশ পায়।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে বাপ্পি ও আরিয়ানকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। শাহিন জানান, “গত রাত তিনটা বাজে হাসপাতালে আমার ভাইটা (আরিয়ান) মারা গেছে। আমার ছেলে বাপ্পি মারা গেছে সবার পরে।” উমায়েরের মৃত্যু হয় আরও কিছুক্ষণ আগে।
সৌজন্যে: বিবিসি বাংলা




































