মঙ্গলবার । মার্চ ১৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিজনেস ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার

নভেম্বরে এলো অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স


remittance

ফাইল ছবি

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে সদ্য বিদায়ী নভেম্বর মাসে। এই মাসে দেশে এসেছে প্রায় ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলা টাকায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ ৩৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকারও বেশি।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ৬৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত অর্থবছরে শুধু রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে একবার ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়াতে দেয়া নানা প্রণোদনা, বৈধ পথে টাকা পাঠাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর সক্রিয় উদ্যোগ রেমিট্যান্স বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে দেশে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের একটির মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।

তবে ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাষ্ট্রায়ত্ত বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব; বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক আল ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয় ছিল— জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।

প্রসঙ্গত, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মার্চে রেমিট্যান্স পৌঁছেছিল সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারে, যা ওই বছরের সর্বোচ্চ অর্জন। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

এর আগের অর্থবছর ২০২৩–২৪–এ মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ওই বছর মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ ছিল মার্চে (৩২৯ কোটি ডলার)।