শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজধানী ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

দুই দফা মারধরে মৃত্যু হয় আইনজীবী নাঈমের, ঘটনায় শনাক্ত ৮


Advocate-Naeem

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পাবনা জজ আদালতের শিক্ষানবিশ আইনজীবী নাঈম কিবরিয়া ক্যানিকে (৩৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৭ থেকে ৮ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ মামলার মূল সন্দেহভাজন মো. জোবায়ের হোসেন পাপ্পু আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা পাপ্পুর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাস্তায় আইনজীবীর প্রাইভেটকারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তবে নিহতের স্বজনরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে নাঈম কিবরিয়া প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যান। এ সময় তার গাড়ির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন তাকে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২ জানুয়ারি নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন।

ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির পর একাধিক মোটরসাইকেলের আরোহীরা একত্রিত হয়ে আইনজীবীকে মারধর করেন। ভুক্তভোগী ও হামলাকারীদের মধ্যে পূর্ব পরিচয়ের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

Pappu-RAB

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি র‍্যাব-১ বারিধারা এলাকা থেকে মূল সন্দেহভাজন পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাপ্পু ও তার সহযোগীরা একাধিক মোটরসাইকেলে করে নাঈমের প্রাইভেটকারটি ধাওয়া করে আই ব্লকের ৭ নম্বর রোডে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ির গতিরোধ করে। পরে নাঈম গাড়ি থেকে নামলে তাকে দুই দফায় মারধর করা হয়।

এদিকে নিহতের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম শামীম জানান, ঘটনার আগে নাঈমকে খুঁজে পাবনায় তার বাড়িতে কয়েকজন যুবক গিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। এতে করে এ হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না স্বজনরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিলেন নাঈম কিবরিয়া। তার ছোট ভাই ফাহিম কিবরিয়া বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন।