
ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বীমার উদ্ভাবনী ধারণা দিলেই মিলবে ৪০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪৯ লাখ টাকা পুরস্কার। ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ফান্ড’ নামক এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা দুটি আইডিয়া বা প্রতিষ্ঠানকে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে হোটেল পূর্বানীতে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি (UNDP) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি’র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং ইউএনডিপি’র পক্ষে আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার এতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এমএসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ হলেও অর্থায়নের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন:
- সরাসরি ব্যাংক ঋণ পান মাত্র ৯ শতাংশ উদ্যোক্তা।
- ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ পান প্রায় ১৪ শতাংশ।
- বাকি প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্যোক্তা এখনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের আওতার বাইরে।
এই বিশাল সংখ্যক উদ্যোক্তাকে ঋণের আওতায় আনতে এবং তাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বীমা সংক্রান্ত এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পসচিব এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “এই ফান্ড নিয়ন্ত্রক-অনুমোদিত উদ্ভাবনী বীমা সমাধানকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও নতুন বিতরণ চ্যানেলের ব্যবহার বাড়বে, যা বিশেষ করে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ও গ্রামীণ এলাকার উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম হাসান সাত্তার।
এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ইউএনডিপি’র ফেসবুক পেজ অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র ২০২৪ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশই সিএমএসএমই। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই খাতে, যেখানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ কর্মরত।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প














































