বৃহস্পতিবার । জুন ৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ট্রাম্পের আশ্বাসে ভরসা, কিন্তু হতাশ ইরানের বিক্ষোভকারীরা


Demo-Iran

ইরানের শাসকরা বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার অভিযানে যাবে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে বিশ্বাস রেখেছিলেন সিভাস শিরজাদ। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে তিনি বিক্ষোভে যোগ দেন। তবে ৮ জানুয়ারি তেহরানে গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর ১২ বছর বয়সী সন্তান এখনো বাবার ফেরার অপেক্ষায়।

১৩ জানুয়ারি ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে লেখেন, “আন্দোলন চালিয়ে যান, সাহায্য যাচ্ছে।” এতে নতুন করে সাহস পান আন্দোলনকারীরা। কিন্তু পরদিনই তিনি জানান, ইরানের শাসকরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার আশ্বাস দিয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসে।

এতে হতাশ হয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। তেহরানে রাজপথ ফাঁকা হতে শুরু করে, অন্য শহরগুলোতে বিচ্ছিন্ন আন্দোলন চললেও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সেগুলোর খবর পাওয়া যাচ্ছে না। মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে গণগ্রেপ্তার চলছে এবং পরিস্থিতি আরও কঠোর হচ্ছে।

২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানির ফাঁসি স্থগিত হওয়াকে মৃত্যুদণ্ড বন্ধের ইঙ্গিত হিসেবে দেখানো হলেও প্রবাসী ইরানিরা নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী এলহাম বলেন, “এবার মনে হয়েছিল কিছু বদলাবে, কিন্তু আশা ভেঙে গেছে।”

অনেকে মনে করছেন, ট্রাম্পের মনোভাব বদলে যাওয়ায় শাসকদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ফক্স নিউজে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনীতির আহ্বান জানালে বিক্ষোভকারীদের সন্দেহ আরও বাড়ে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনো সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছে বলে জাতিসংঘে জানিয়েছে, তবুও আন্দোলনকারীরা আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন। ইন্টারনেট বন্ধ, কঠোর দমন-পীড়ন ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তায় তারা অপেক্ষায় আছেন- ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেন, সেটি দেখার জন্য।