বৃহস্পতিবার । জুন ৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানে স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত ইন্টারনেট সেবা চালুর পর আবার বন্ধ


Iran Internet

বিক্ষোভ দমনের আড়ালে হাজারো মানুষ হত্যার ঘটনা গোপন করতেই ইরানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো যে অভিযোগ করেছে, সেই ব্ল্যাকআউট শুরুর ১০ দিন পর রোববার স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত আকারে ইন্টারনেট সেবা ফের চালু হলেও তা আবার বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতার ওপর কোনো হামলা হলে সেটিকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে দেখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করার পর ইরানের তরফ থেকে এই সতর্কবার্তা আসে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই এমন এক আন্দোলনে রূপ নেয়, যাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানুয়ারির ৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া যোগাযোগ ব্ল্যাকআউটের আড়ালে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস রোববার রাতে জানায়, ‘ইরানে নির্দিষ্ট কিছু গুগল ও মেসেজিং সেবায় অতি সীমিত ও কঠোরভাবে ফিল্টার করা সেবা চালু হওয়ার পর আবারও ট্রাফিকের মাত্রা কমে গেছে।’

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, শুরুতে বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ ছিল, পরে তা ‘দাঙ্গায়’ রূপ নেয় এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো শত্রু রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব রয়েছে।

জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেওয়ার পর ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ওয়াশিংটন আপাতত কিছুটা পিছু হটলেও, শনিবার ‘পলিটিকো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আক্রমণ করে বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘লোকটি একজন অসুস্থ মানুষ। তার উচিত দেশ সঠিকভাবে চালানো এবং মানুষ হত্যা বন্ধ করা।’

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের দেশের মহান নেতার ওপর হামলা মানে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ।’

এদিকে এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গতকাল রোববার থেকে ইরানে স্কুলগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়।