রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি: কী জানা যাচ্ছে


US Army

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, “সহায়তা আসছে।” তবে পরে তিনি সামরিক বক্তব্য কিছুটা নরম করেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বড় পরিসরে নৌ ও বিমান সামরিক সম্পদ পাঠাচ্ছে, যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

প্রশ্ন উঠছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েন করছে? আর ওয়াশিংটন কি আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে?

কেন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় ‌‘নৌবহর’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে পাঠাচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানকে নজরে রাখছি। ইরানের দিকে একটি বড় শক্তি এগোচ্ছে। হয়তো আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে না… তবে প্রস্তুতির জন্য বিশাল একটি বহর সেখানে যাচ্ছে।’

এই বহরের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, যা দক্ষিণ চীন সাগর থেকে গতিপথ পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। এর সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ারগুলোতে টমাহক ক্রুজ মিসাইল রয়েছে, যা ইরানের ভেতরের গভীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এ ছাড়া এসব জাহাজে রয়েছে কমব্যাট সিস্টেম, যা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলসহ আকাশপথের বিভিন্ন হুমকি প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র সাবমেরিন থেকে প্রায় ৩০টি টমাহক মিসাইল নিক্ষেপ করে এবং বি-টু বোমারু বিমান ব্যবহার করে বলে জানা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা বিস্তৃত?
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়। বর্তমানে এই অঞ্চলে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি স্থানে সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮টি স্থায়ী ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি রয়েছে— বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় সেনা মোতায়েন ঘটে ১৯৫৮ সালে, লেবাননের বৈরুতে। সে সময় প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা সেখানে অবস্থান করেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সামরিক মোতায়েন এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র নতুন ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজি প্রকাশ করেছে, যেখানে অন্যান্য অঞ্চলে সেনা উপস্থিতি কমিয়ে পশ্চিম গোলার্ধে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া কী?
ইরান কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের সামরিক সমন্বয় প্রধান আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি বলেছেন, ‘ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক হামলা হলে, অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’

অন্যদিকে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, ‘আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত—আঙুল ট্রিগারে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ভুল হিসাব না করার’ আহ্বান জানান।

বিশ্লেষণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ সরাসরি যুদ্ধের ইঙ্গিত না দিলেও, এটি কৌশলগত চাপ ও শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানও স্পষ্ট করে দিয়েছে— যেকোনো ভুল পদক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, সামান্য ভুল হিসাবই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে— যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর।

আল জাজিরা থেকে

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প