শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

এ আর রাহমানের উপস্থিতি ঘিরে কপিল শো-তে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক 


kapil show

ধর্মীয় মেরুকরণ ও বলিউডের ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যে যখন চারদিকে তুমুল আলোচনা, ঠিক তখনই ভিন্ন এক আবহে পর্দায় হাজির হলেন অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমান। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় কমেডি অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর বিশেষ পর্বে তাঁর উপস্থিতি একদিকে দর্শকদের বিনোদিত করেছে, অন্যদিকে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আসন্ন চলচ্চিত্র ‘গান্ধী টকস’-এর প্রচার উপলক্ষে এই পর্বে রাহমানের সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি, বিজয় সেতুপতি এবং সিদ্ধার্থ যাদব। অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক কপিল শর্মা কৌতুকের ছলে লতা মঙ্গেশকরের একটি সিডিতে হাত রেখে রাহমানকে শপথ করান, সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সরাসরি এবং কোনো প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। যদিও দৃশ্যটি ছিল নিছক বিনোদনের জন্য কিন্তু দর্শকদের মনে কৌতূহল ছিল রাহমান কি সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলবেন?

কপিল শো-এর প্রশ্নোত্তর পর্বে রাহমানকে তাঁর স্বভাবসুলভ শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতেই দেখা গেছে। ক্রিকেট বা ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে নানা প্রশ্ন এলেও তিনি সুকৌশলে যেকোনো বিতর্ক এড়িয়ে গেছেন। অথচ এর ঠিক আগেই বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ কমে যাওয়ার পেছনে শিল্পের ক্ষমতার কেন্দ্র বদল ও পরোক্ষভাবে সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছিল বলিউডে বিভাজনের বিতর্ক। পরে রাহমান অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁর কথা ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সরাসরি বিতর্কের কথা না বললেও কপিল শো-তে একটি খেলার প্রসঙ্গ টেনে রাহমান এক গভীর সত্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বার্তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে যেতে বদলে যায়। পৃথিবীর বড় সমস্যাই হলো তথ্য চলার পথে বিকৃত হয়ে পড়া।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে তাঁর আগের বিতর্কিত মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যার দিকেই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানটি একদিকে যেমন দর্শকদের স্বস্তি দিয়েছে, অন্যদিকে তা থেকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমালোচনা। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে প্রকাশ্যে এই অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, রাহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারতীয় ও হিন্দু সমাজের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে একটি বড় বিনোদনমূলক মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো উচিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কনটেন্ট নীতিমালা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সব মিলিয়ে কপিল শর্মার শো-এর এই পর্বটি নিছক বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। এটি দেখিয়েছে কীভাবে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত মতাদর্শ ও বক্তব্য বিনোদন, রাজনীতি এবং সামাজিক আলোচনার সূক্ষ্ম সীমারেখাকে স্পর্শ করে। উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ার মধ্যেও রাহমানের সংযত উপস্থিতি অনেক দর্শকের কাছে এক স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।