রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিএনপির


tareique ishtehar 4

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করা এবং উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত দলটির ইশতেহারে এ ছাড়াও সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারওগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ইশতেহারের রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার অংশে বলা হয়েছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে।

রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্য হিসেবে ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়—জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল, ৩১ দফার ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে।

এ ছাড়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে সংস্কার, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে বিএনপি আরও বলেছে, তারা ফ্যাসিবাদ ও তাঁবেদারিত্বের পুনরাবৃত্তি রোধ, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়, বিএনপি বিশ্বাস করে জাতি গঠন মানে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, বরং বিভাজন অতিক্রম করে একটি অভিন্ন জাতীয় সত্তা নির্মাণ। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটিয়ে “আমরা সবাই বাংলাদেশি”—এই পরিচয়ের ওপর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে দলটি।

ইশতেহারে আরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি ও সমতলের মানুষ—ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করে একটি অখণ্ড জাতীয় সত্তা গঠনের লক্ষ্যে ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন করা হবে।