
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন দল দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রকাশিত এক্সিট পোল। জরিপ অনুযায়ী, তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে ২৭৪ থেকে ৩২৮টি আসন পেতে পারে, যেখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৩৩টি আসন।
জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন)-কে সঙ্গে নিয়ে এলডিপি মোট ৩৬৬টি আসন পর্যন্ত পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রবিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে এলডিপির বড় ধরনের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে এনএইচকে।
মিডিয়ার প্রাথমিক ফলাফলে দলের বিজয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরই দায়িত্বশীল ও সক্রিয় রাজস্ব নীতির গুরুত্বের কথা বলে আসছি। আমরা রাজস্ব নীতির টেকসই দিককে অগ্রাধিকার দেব এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করব।’
তাকাইচি ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও, গত কয়েক বছর ধরে ক্ষমতাসীন এলডিপি অর্থায়ন ও ধর্মীয় কেলেঙ্কারির কারণে চাপের মুখে ছিল। দলের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় আকস্মিক মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী তাকাইচির সাফল্য এলডিপিকে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি উপেক্ষা করার ক্ষমতা দিতে পারে। এটি জাপানের দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বদলানোর জন্য তাকাইচির সবচেয়ে বড় সুযোগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রণীত জাপানের সংবিধানে সামরিক বাহিনীকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং তাদের ভূমিকা কেবল আত্মরক্ষামূলক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ।
জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কেইদানরেনের প্রধান ইয়োশিনোবু সুতসুই ফলাফলকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই নির্বাচনের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে চীনও। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকাইচি তাইওয়ানে চীনের সম্ভাব্য হামলার জবাবে টোকিও কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে—তা প্রকাশ্যে তুলে ধরে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।
শক্তিশালী জনমত তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের পরিকল্পনাকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে পারে, যাকে বেইজিং জাপানের সামরিকতাবাদী অতীত পুনর্জীবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
লক্ষ্য গণতন্ত্র … জনতাই মূলমন্ত্র



































