শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক শিক্ষা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

সরকার চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে রাজি ঢাবি উপাচার্য


DU-VC

ফাইল ছবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করার পক্ষে তিনি নন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাবির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপাচার্যের বক্তব্য কিছু গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করছেন—এমন দাবি তার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নির্বাচনের পর তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তবে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি শূন্যতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সে ক্ষেত্রে সরকার চাইলে আরও কিছু সময় দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, একটি আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ছাত্রদের অনুরোধে দেশ ও জাতির স্বার্থে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সবার সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এখন আর সেই নাজুক অবস্থা নেই বলেই তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চান।

একই সঙ্গে তিনি জানান, ডেপুটেশনে নিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে নিজের মূল পদ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে গ্রেড–১ অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যেতে চান। এ জন্য তিনি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে চিঠি দেবেন বলেও জানান।

উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দায়িত্ব নেন এক বিশেষ ও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল এবং প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। সে সময় তার প্রথম লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট এবং আপৎকালীন অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়েছে।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, তিনি কখনোই উপাচার্যের দায়িত্বকে নিয়মিত চাকরি হিসেবে দেখেননি। তার কাছে এটি ছিল একটি আমানতের মতো দায়িত্ব, যা তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ ও ভালোবাসায় গ্রহণ করেছিলেন।

সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে তারা যেন নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে—এটাই তিনি চান এবং সে ক্ষেত্রে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

দায়িত্বকালে অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, হল সংসদ কার্যকর হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে। পাশাপাশি টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাংকিংয়ে প্রায় ২০০ ধাপ অগ্রগতি, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও প্রকাশনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, যা আবাসন, একাডেমিক ভবন ও গবেষণা অবকাঠামোর ঘাটতি অনেকাংশে কমাবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সরকারকে দ্রুত তার ডেপুটেশন প্রত্যাহার করে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে মূল শিক্ষকতার দায়িত্বে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানাবেন।

শেষে তিনি বলেন, ‘অনেকদিন কঠিন পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন।’