রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

হরমুজ প্রণালীর আংশিক বন্ধ করলো ইরান


Hormuz

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সামরিক মহড়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জেনেভা শহরে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনায় বসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর জ্বালানি বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ এই হরমুজ প্রণালী। ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ। এ কারণে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল চোক পয়েন্ট’গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর এই প্রথম প্রণালীর কোনো অংশ বন্ধ করল ইরান।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অব দ্য স্ট্রেইট অব হরমুজ’ নামের মহড়ার অংশ হিসেবে সাময়িক এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য অপারেশনাল প্রস্তুতি বৃদ্ধি ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা। মহড়ার সময় গোলাবর্ষণের একটি এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রণালীর প্রবেশপথের নৌ-চলাচল রুটের সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টার জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

আলোচনা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গাইডিং প্রিন্সিপলস’ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। তবে তিনি বলেন, এর অর্থ দ্রুত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হবে—এমন ধারণার সুযোগ নেই; এখনো অনেক কাজ বাকি।

এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে থাকায় জ্বালানি বাজারের নজর ছিল এই আলোচনার ফলাফলের দিকে। শুরুতে দাম বাড়লেও পরে তা কমে যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ দশমিক ৪৮ ডলারে নেমে আসে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ৬৫ ডলারে।

বিশ্ব জাহাজ মালিকদের সংগঠন বিমকোর নিরাপত্তা প্রধান জ্যাকব লারসেন বলেন, এই সাময়িক নিয়ন্ত্রণ বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে না। তবে পারস্য উপসাগরমুখী জাহাজ চলাচলে কিছুটা বিলম্ব এবং সামান্য অসুবিধা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের নির্দেশনা মেনে চলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।