
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদের আড়ালে এক বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের গোপন পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা ফাঁস হওয়া কিছু নথি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকায় প্রায় ৩৫০ একর জায়গা জুড়ে এই ঘাঁটিটি নির্মাণ করা হবে। এটি মূলত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) প্রধান অপারেশনাল সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে শান্তি পরিষদের প্রথম বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেছেন। বৈঠকে ইন্দোনেশিয়া ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও, ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধি এই বৈঠকে ছিল না। এমনকি ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলোও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
অনেকে মনে করছেন, “এই শান্তি পরিষদ মূলত একটি আইনি আবরণ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় নিজের স্থায়ী আধিপত্য নিশ্চিত করতে চাইছে।”
ঘাঁটি নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধান কারিগরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মাটির নিচে থাকা হামাসের সুড়ঙ্গ পথ এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজার হাজার মরদেহ।
ঠিকাদারদের মাটির নিচে বিশেষ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ চালিয়ে সুড়ঙ্গ শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ চলাকালীন মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেলে বিশেষ প্রটোকল অনুসরণের কথা বলা হয়েছে নথিতে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থানীয়দের অনুমতি ছাড়া এমন সামরিক স্থাপনা নির্মাণকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা ‘দখলদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আইনজীবী ডায়ানা বুট্টু এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছেন।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে যে, গাজায় সরাসরি কোনো মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না, তবে ফাঁস হওয়া নথির সুনির্দিষ্ট তথ্যের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ঘাঁটির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ: ধারণক্ষমতা: প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্যের আবাসন ব্যবস্থা। নিরাপত্তা: পুরো এলাকা কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঘেরা থাকবে এবং ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার বসানো হবে। অবকাঠামো: ছোট অস্ত্র প্রশিক্ষণ রেঞ্জ, সামরিক সরঞ্জামের গুদাম এবং উন্নত বায়ু চলাচল সুবিধাযুক্ত বিশেষ বাঙ্কার। তদারকি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গঠিত ‘শান্তি পরিষদ’ এই ঘাঁটি ও গাজা শাসনের পূর্ণ দায়িত্বে থাকবে।



































