
ফাইল ছবি
ওমানের রাজধানী মাস্কেট উপকূল থেকে মাত্র পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে গত ১ মার্চ ভয়াবহ মিসাইল হামলার শিকার হয়েছেন চারজন বাংলাদেশি নাবিক। তারা দেশে ফেরার পর সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ভারতীয় সহকর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা, বিস্ফোরণ এবং আগুনের মধ্যে জীবন ঝুঁকি নিয়ে নাবিকদের উদ্ধারের সাহসিকতার ঘটনা প্রকাশ করেছেন তারা।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) শনিবার (৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার শিকার জাহাজটির নাম ‘এমকেডি ভিয়োম’ এবং এটি একটি ক্রুড তেল বহী ট্যাঙ্কার। জাহাজে ২২ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে চারজন বাংলাদেশি এবং অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক। হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
জাহাজটিতে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন দাহ্য গ্যাসোলিন থাকায় বিস্ফোরণের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ১২টার মধ্যে হঠাৎ জাহাজে একটি শক্তিশালী মিসাইল আঘাত হানে। মুহূর্তেই ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায় এবং ১০ থেকে ১২ ফুট ব্যাসের বড় একটি গর্ত সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ও আগুনের শিখায় সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমানসহ নাবিকরা দগ্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে পড়েন।
নিখোঁজ ভারতীয় নাবিককে উদ্ধারে চার বাংলাদেশি নাবিকসহ অন্যান্যরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে অভিযান চালান। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তার মরদেহ উদ্ধার করার সময়ও নাবিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ছিল।
জাহাজের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নাবিকদের নিরাপদে সরানোর জন্য সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার, চিফ অফিসার এবং থার্ড অফিসারের নেতৃত্বে দুটি উদ্ধার দল গঠন করা হয়। তারা আগুন নেভানোর জন্য পোর্টেবল এক্সটিংগুইশার, সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলন এবং রশির সাহায্য নেন। ধোঁয়া, অন্ধকার এবং অচল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে অভিযান চলছিল।
দেশে ফেরা চার বাংলাদেশি নাবিক হলেন— সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, থার্ড অফিসার মো. মনিরুল আলম জয়, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার রিফাত মাহমুদ এবং ইলেকট্রিশিয়ান মোহাম্মদ আবু নাছের। তারা ৪ থেকে ৬ মার্চের মধ্যে নিরাপদে দেশে ফিরে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান।
বিএমএমওএর সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, এত ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নাবিকদের সাহসিকতার সঙ্গে আগুন নেভানো এবং সহকর্মীদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা বিরল উদাহরণ। চার বাংলাদেশি নাবিক এই ঘটনায় অসাধারণ সাহসিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা দেশের নাবিকদের জন্য গর্বের বিষয়।








































