মঙ্গলবার । মার্চ ৩১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৩০ মার্চ ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনে কী ঘটেছিল?


land day

১৯৭৬ সালের বিক্ষোভের কেন্দ্র ছিল সাখনিন, আরাব্বেহ এবং দেইর হান্না নামের ফিলিস্তিনি শহরগুলো

প্রতি বছর ৩০ মার্চ ফিলিস্তিনিরা ‘ভূমি দিবস’ বা ইয়াওম আল-আরদ পালন করে। ৫০ বছর আগে এই দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে স্মরণ করেই দিনটি পালিত হয়।

১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ, র গুলিতে ছয়জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং ভূমি দখলেরইসরায়েলি বাহিনী বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শতাধিক মানুষ আহত হন।

সেই সময় ইসরায়েল সরকার গ্যালিলি অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মালিকানাধীন প্রায় ২,০০০ হেক্টর (৪,৯৪২ একর) জমি অধিগ্রহণের নির্দেশ দেয়। এই পদক্ষেপটি ছিল গ্যালিলি অঞ্চলকে ‘ইহুদিকরণ’ করার রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ, যা ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে চালু ছিল।

যদিও জমি দখলের প্রভাব পুরো গ্যালিলি জুড়ে পড়ে, ১৯৭৬ সালের বিক্ষোভের কেন্দ্র ছিল সাখনিন, আরাব্বেহ এবং দেইর হান্না নামের ফিলিস্তিনি শহরগুলো। দখল করা জমির পরিমাণ প্রায় ৩,০০০ ফুটবল মাঠের সমান।

ভূমি দিবসে ফিলিস্তিনিরা কী করে?
ইসরায়েলের ভেতরে এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল—গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে—ফিলিস্তিনিরা এই দিনটি পালন করে বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং অলিভ গাছ রোপণের মাধ্যমে, যা তাদের ভূমির সঙ্গে সম্পর্কের প্রতীক। অনেক সময় এসব বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর শক্তি প্রয়োগ দেখা যায়।

এছাড়া, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শহরেও প্রতিবছর ভূমি দিবস উপলক্ষে মিছিল ও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েল কি এখনো জমি দখল করছে?
ইসরায়েল এখনও ফিলিস্তিনি জমি দখল করে তা সামরিক এলাকা, রাষ্ট্রীয় জমি বা অন্যান্য নামে ঘোষণা করে থাকে।সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপ অনুমোদন করে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি জমি ইসরায়েলি বসতকারীদের কাছে বিক্রি সহজ করা এবং ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত।

মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন দেশ এই পদক্ষেপকে বাস্তবিক সংযুক্তি এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল বসতি স্থাপন কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১২,৩৪৯টি, ২০২৪ সালে ৯,৮৮৪টি এবং ২০২৫ সালে রেকর্ড ২৭,৯৪১টি নতুন আবাসন ইউনিট অনুমোদন করা হয়।

এছাড়া, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিম তীরে ১৯টি অবৈধ বসতি বৈধ করার পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়, যা ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি এলাকায় নির্মিত হবে এবং চলাচলে আরও বাধা সৃষ্টি করবে।

একই সঙ্গে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বাড়িঘর ধ্বংস ও গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে। বসতকারীদের হামলাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে—২০২২ সালে ৮৫২টি, ২০২৩ সালে ১,২৯১টি, ২০২৪ সালে ১,৪৪৯টি এবং ২০২৫ সালে ১,৮২৮টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন পাঁচটির বেশি।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতকারীদের হামলায় অন্তত ১,০৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

২০২৬ সালের ২৩ মার্চ, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ দক্ষিণ লেবাননকে ইসরায়েলের সংযুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের নতুন সীমান্ত লিতানি নদী পর্যন্ত হওয়া উচিত।

এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘাতের কারণে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাসিন্দাদের ওই এলাকায় ফিরে যেতে দেবেন না।