মঙ্গলবার । মার্চ ৩১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৩০ মার্চ ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

জ্বালানি সংকট নয়, অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: মন্ত্রী


Ikbal-hasan-mahmud

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সংগৃহীত ছবি

বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশে জ্বালানি সংকট নয়, বরং অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতাই প্রধান চ্যালেঞ্জ—জাতীয় সংসদে এমন মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সোমবার সংসদ অধিবেশনে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তেজনা থাকলেও আগাম প্রস্তুতির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চলতি মার্চে গত বছরের তুলনায় বেশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ডিজেলের মজুদ ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন, যা ৩০ মার্চে বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার টন। ৪১ দিনে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন বিক্রি হওয়া সত্ত্বেও মজুদ বেড়েছে—যা কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রমাণ বলে দাবি তার।

ঈদ সামনে রেখে ২০২৬ সালের মার্চে ১০–২৫% অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বাস্তব চাহিদা না বাড়লেও জনগণের মধ্যে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি জ্বালানি কেনার প্রবণতা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, যেখানে মোটরসাইকেল সাধারণত ৫ লিটার অকটেন নিত, সেখানে এখন অনেকে দিনে কয়েকবার মিলিয়ে ১৫–২০ লিটার নিচ্ছেন। ফলে ২০২৫ সালের মার্চে একটি স্টেশনে দৈনিক অকটেন বিক্রি ছিল ৫,৪০০ লিটার, আর ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ১০,৬২০ লিটার—বৃদ্ধি প্রায় ৯৬%।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জ্বালানির ৬৩% ডিজেল; অকটেন-পেট্রলের অংশ মাত্র ৬–৭%। তাই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন বাস্তব সংকট নয়, বরং অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতারই প্রতিফলন।

অবৈধ মজুদ ও পাচার ঠেকাতে ৩,১৬৮টি অভিযান চালিয়ে ৫৩টি মামলা, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা, ১৬ জনের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ করা হয়েছে।

সরকার এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানি এবং দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার টন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে, যা দুই মাসের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।

ডিজেলের প্রকৃত ব্যয় লিটারপ্রতি ১৯৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, ফলে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা।