
নিহত তৌহিদুল ইসলাম নাহিদ। ছবি: সংগৃহীত
ভাগ্যের অন্বেষণে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. তৌহিদুল ইসলাম নাহিদ (২৬)। ইচ্ছা ছিল কঠোর পরিশ্রমে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল সব স্বপ্ন। ওমানের মাস্কাটে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই যুবক।
নিহতের পরিবার জানায়, দুর্ঘটনার ঠিক আগের দিনই ছিল নাহিদের জন্মদিন। বন্ধু-বান্ধব আর প্রিয়জনদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন তার মৃত্যুর সংবাদে পরিবার ও নিজ এলাকায় এখন শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ওমানের মাস্কাট ইসমাইল এলাকার ‘ওয়াদি মরম’ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, কর্মস্থল থেকে গাড়িযোগে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কের পাশের পাহাড়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তৌহিদুলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটির চালক চকরিয়া থানার এমদাদ নামে অপর এক প্রবাসী হলেও তিনি অক্ষত রয়েছেন।
নিহত নাহিদ ওমানের ‘আল হাদারা বিন দফ্ফা’ এলাকায় ইলেকট্রিকের কাজ করতেন। তার রুমমেট মো. সুমন জানান, নাহিদ অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। প্রায় ৪-৫ বছর আগে ওমান গেলেও এই দীর্ঘ সময়ে তিনি একবারের জন্যও দেশে ফিরতে পারেননি। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দিনরাত কাজ করে যাওয়া নাহিদকে শেষ পর্যন্ত লাশ হয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে।
নাহিদের অকাল মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বন্ধুরা আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন। তার ছোটবেলার বন্ধু মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন হৃদয় লিখেছেন, “গতকালই জন্মদিনের উইশ করলাম, আজকে তুই চলে গেলি! এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওমানে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নাহিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রিয় সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে শোকাতুর পরিবার।













































