রবিবার । এপ্রিল ১২, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১২ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

হরমুজ প্রণালিতে কীভাবে চাপ তৈরি করতে পারে ইরান


Hormuz

হরমুজ প্রণালি

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান চাইলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পর ইরান প্রতিদিন জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তা থেকে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা চালু করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে—জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমায় প্রবেশের আগে অনুমতি নিতে হবে এবং নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আইনের চোখে গ্রহণযোগ্যতা পেতে ইরান সরাসরি ‘টোল’ শব্দ ব্যবহার না করে ‘সার্ভিস ফি’ বা সেবামূল্য হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারে। সমুদ্র আইনের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রণালীতে সরাসরি টোল নেওয়া নিষিদ্ধ হলেও নিরাপত্তা বা নৌ-সহায়তার মতো সেবার জন্য ফি নেওয়ার কিছু সুযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এই প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এমন প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়।

বর্তমানে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা নেমে এসেছে খুবই অল্প সংখ্যায়। যেসব জাহাজ যাচ্ছে, তাদেরকে নানা ধরনের নথি জমা দিতে হচ্ছে এবং ইরান যাচাই করছে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি নিয়মিত ফি আরোপ করতে চায়, তবে সেটি টনেজ বা পণ্যভিত্তিক চার্জ হিসেবে করা সবচেয়ে সহজ হবে। ইতিমধ্যে কিছু জাহাজ মালিক চীনা ইউয়ান বা এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

এই পরিস্থিতিতে জাহাজ মালিকদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি হতে পারে। পশ্চিমা মালিকরা ঝুঁকি এড়িয়ে বিকল্প রুট বেছে নিতে পারেন, আর এশীয় মালিকরা ঝুঁকি নিয়ে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারেন।

বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তেলের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান উচ্চমূল্যের বাজারে ইরানের আরোপিত ফি জাহাজ মালিকরা সহজেই বহন করতে পারে।

তবে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা। ইরানের সঙ্গে যেকোনো আর্থিক লেনদেনই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। তাই এই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া জরুরি।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরানের এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছে। তারা আশঙ্কা করছে, এটি ভবিষ্যতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে, তাহলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। আর সেই পরিস্থিতিতে ইরান তার কৌশলগত অবস্থানকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রস্তুত।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প