
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের দীর্ঘ সাত দশকের ক্যারিয়ারে সাফল্যের মুকুটে যেমন অজস্র পালক রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু চমকপ্রদ ও বিতর্কিত ইতিহাস। তাঁর গাওয়া অসংখ্য কালজয়ী গানের মধ্যে এমন একটি গান রয়েছে, যা মুক্তির পর খোদ ভারত সরকার রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। অথচ সেই গানটিই পরে তাঁকে এনে দিয়েছিল শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান।
সেই বহুল আলোচিত গানটি হলো ১৯৭১ সালের ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘দম মারো দম’। আর ডি বর্মনের সুর এবং আনন্দ বক্সীর কথায় গানটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। কিন্তু গানটির কথায় মাদক সেবনের ইঙ্গিত এবং এর পাশ্চাত্য ‘হিপ্পি’ সংস্কৃতির আবহ তৎকালীন রক্ষণশীল ভারতীয় সমাজে বিতর্কের ঝড় তোলে।
তৎকালীন সরকারের ধারণা ছিল, গানটি যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই আশঙ্কায় অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং দূরদর্শনে গানটির সম্প্রচার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা গানটির জনপ্রিয়তায় ভাটা ফেলতে পারেনি, বরং এটি সময়ের সাথে সাথে একটি ‘কাল্ট ক্লাসিক’-এ পরিণত হয়।

মজার বিষয় হলো, যে গানটিকে একসময় ‘সংস্কৃতি পরিপন্থী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেই গানটি গেয়েই ১৯৭৩ সালে সেরা নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজের প্রথম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জয় করেন আশা ভোঁসলে।
এই গানের নেপথ্যে আরও একটি রোমাঞ্চকর তথ্য রয়েছে। ছবির পরিচালক দেব আনন্দ প্রথমে গানটি সিনেমা থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু আশা ভোঁসলের অনুরোধ এবং আর ডি বর্মনের আত্মবিশ্বাসের কারণে গানটি শেষ পর্যন্ত রাখা হয়। আজ পাঁচ দশক পেরিয়েও ‘দম মারো দম’ কেবল একটি গান নয়, বরং ভারতীয় সংগীত ইতিহাসের এক সাহসী ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে টিকে আছে।







































