
উত্তর আমেরিকায় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে যাতায়াত খরচের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ে যখন তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই ফুটবল বিশ্বে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জার্মানির জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। টুর্নামেন্টের আকাশচুম্বী যাতায়াত খরচের কারণে বিপাকে পড়া নিজেদের ফুটবল ভক্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গ্যালারিতে বসে দলকে সমর্থন জোগাতে আসা ৬০০ জার্মান সমর্থকের যাতায়াতের সম্পূর্ণ খরচ নিজেদের পকেট থেকে পরিশোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবলাররা।
আগামী ২৫ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে জার্মানি। সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক থেকে নিউ জার্সির এই ভেন্যুতে যাওয়ার ট্রেনের টিকিট সাধারণ সময়ে যেখানে মাত্র ১২.৯০ ডলার থাকে, সেখানে বিশ্বকাপ উপলক্ষে সেই ভাড়া একলাফে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১৫০ ডলার। পরবর্তীতে তীব্র আপত্তির মুখে তা কমিয়ে ৯৮ ডলারে নামানো হয়।
একইভাবে এই পথের শাটল বাসের ভাড়া শুরুতে ৮০ ডলার নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে তা ২০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর এই অতিরিক্ত ভাড়ার পেছনে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা-কে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, ফিফা যাতায়াত খাতে কোনো ধরনের ভর্তুকি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই ভাড়ার এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে যাতায়াতের এমন চড়া মূল্যের প্রতিবাদে এবং ভক্তদের আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি দিতে জার্মানির ফুটবলাররা নিজেরাই এই অভিনব উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে জার্মানির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (DFB) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিশ্বকাপ চলাকালীন নিউ ইয়র্কে বাস ও ট্রেনের অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের বিষয়টি বিবেচনা করে, জার্মানি জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের জন্য ৬০০ সমর্থকের বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ এবং তার সতীর্থরা সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই বিশেষ বাসের খরচ বহন করছেন, যা সমর্থকদের নিউইয়র্ক থেকে ম্যাচ ভেন্যু নিউজার্সির অ্যারেনায় নিরাপদে পৌঁছে দেবে।
উল্লেখ্য, এর আগের রাশিয়া (২০১৮) এবং কাতার (২০২২) বিশ্বকাপে সমর্থকদের জন্য ম্যাচ ভেন্যু এবং ফ্যান জোনে যাওয়ার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করার সুযোগ ছিল। এমনকি ২০১৮ সালের স্বাগতিক চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রও ভক্তদের এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তবে ২০২৩ সালে সেই চুক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিশ্বকাপের সময় সমর্থকদের কাছ থেকে যাতায়াতের প্রকৃত খরচ আদায় করা হবে, যার ফলশ্রুতিতে চলতি টুর্নামেন্টে যাতায়াত ভাড়ার এই নজিরবিহীন ও বৈরী চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রিয় তারকাদের কাছ থেকে পাওয়া এই উপহার জার্মান সমর্থকদের বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।














































