
ইমতু রাতিশ
দেশের বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ এবং নানামুখী প্রতিভার অধিকারী ইমতু রাতিশ। চমৎকার অভিনয়, সাবলীল উপস্থাপনা আর নজরকাড়া মডেলিং সব মাধ্যমেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুড়াচ্ছেন দর্শকের ভালোবাসা। তবে পর্দার এই তারকার ভেতরেও লুকিয়ে আছে একজন খাঁটি ফুটবলপ্রেমী। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা আর নিজের ফুটবল ভাবনা নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহানুর রহমান সোহাগ
আপনি কি ফুটবল ভালোবাসেন?
অবশ্যই। শুধু ভালোবাসি না, কঠিন প্রেম।
ফুটবল বিশ্বকাপ এলে কেমন অনুভূতি কাজ করে?
ফুটবল আমার কাছে শুধু একটা খেলা নয়, ফুটবল মানেই এক পশলা উন্মাদনা। আর যখন ফুটবল বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসে, আমার ভেতরের এই উন্মাদনা যেন শতগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বকাপের ওই একটা মাস আমি অন্য এক জগতে বাস করি। তাই এই বিশেষ সময়টাতে আমি সচেতনভাবেই নিজের কাজের চাপ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনি, যাতে প্রিয় দলের খেলার প্রতিটি মুহূর্ত প্রাণভরে উপভোগ করতে পারি। বিশ্বকাপের দিনগুলোতে আমার মাথায়, চিন্তায় আর ভাবনায় কেবল ফুটবলই রাজত্ব করে। একজন সত্যিকারের ফুটবল ভক্ত হিসেবে এই আনন্দ আর উত্তেজনাকে আমি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না।
এবারের বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করছেন এবং কেন?
একদম সত্যি বলতে, আমি যখন ফুটবলের নিয়মকানুন কিংবা ভালো-মন্দ অতটা বুঝতাম না, ঠিক তখন থেকেই আমি ব্রাজিলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। শৈশবের সেই হলুদ-সবুজ জার্সির প্রতি যে আবেগ তৈরি হয়েছিল, তা আজও আমার হৃদয়ে প্রথম পছন্দ হিসেবে রয়ে গেছে।
তার মানে কি আর্জেন্টিনা বিরোধী?
একদমই না। ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমি কোনো সংকীর্ণ গণ্ডিতে আটকে থাকতে পছন্দ করি না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও আর্জেন্টিনার সুন্দর খেলাকেও আমি ভীষণ পছন্দ করি। আসলে দিনশেষে আমি ফুটবলের একজন প্রকৃত ভক্ত। মাঠের বুকে যারা শৈল্পিক ফুটবল খেলে, যাদের পাসিং, ড্রিবলিং আর গোল করার ধরণ মন ছুঁয়ে যায় আমি তাদের খেলারই মায়ায় পড়ে যাই। দল হিসেবে ব্রাজিল সবসময়ই আমার প্রথম ভালোবাসা, কিন্তু নান্দনিক ফুটবলের জয়গান গাইতে আমি কখনোই কার্পণ্য করি না।
ব্রাজিল কি এবার চ্যাম্পিয়ন হবে?
ফুটবলের মাঠে ব্রাজিলের যে সোনালী অতীত এবং ঐতিহ্য রয়েছে, তা আবার ফিরে আসবে এটাই আমার বিশ্বাস। সাম্বার ছন্দে ফুটবল বিশ্বকে মাতাতে সেলেসাওরা আবার তাদের চিরচেনা শীর্ষস্থানটি ফিরে পাবে। আমি দৃঢ়ভাবে আশা রাখি, আসন্ন এই বিশ্বকাপটি হবে ব্রাজিলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ। সব বাধা পেরিয়ে, নিজেদের চেনা রূপে চাঙ্গা হয়ে এবার তারা আবার বিশ্বমঞ্চের ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে এবং এই আসরটি ফুটবল ইতিহাসে ‘ব্রাজিলের কামব্যাক বিশ্বকাপ’ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আপনার দেখা বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচ বা মুহূর্ত কোনটি?
বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আর ফাইনালের মতো বড় ম্যাচগুলো আমি সবসময়ই খুব উপভোগ করি। তবে আমার দেখা সেরা ম্যাচ হলো ২০২২ সালের আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের ফাইনালটি। প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে টাইব্রেকার পর্যন্ত ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে যে রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তা ছিল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয়, এই শতাব্দীতে হয়তো এমন শ্বাসরুদ্ধকর এবং নিখুঁত ফুটবল ম্যাচ আর দ্বিতীয়টি হওয়া সম্ভব না।
সুযোগ পেলে কোন ফুটবলারের সঙ্গে দেখা করতে চাইবেন?
যদিও আমি জানি এই স্বপ্ন কখনো পূরণ হবার নয়, তাও যদি অলৌকিক কোনো সুযোগ পেতাম, তবে আমি অবশ্যই ফুটবল ইতিহাসের দুই অমর কিংবদন্তি পেলে এবং ম্যারাডোনার সাথে দেখা করতে চাইতাম। ফুটবলকে তারা যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাদের সামনাসামনি দেখার সৌভাগ্য হওয়াটা যেকোনো ফুটবল ভক্তের জন্যই হতো জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
পেলে ও ম্যারাডোনাকে কী প্রশ্ন করতেন?
সুযোগ পেলে আমি ফুটবলের এই দুই মহান সম্রাটের গা ছুঁয়ে শুধু একটি প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করতাম কীভাবে আপনারা নিজেদের এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন, যেখানে আপনারা কেবল ফুটবলের ঊর্ধ্বে নন, বরং সাধারণ মানুষেরও ঊর্ধ্বে গিয়ে মহামানব হয়ে উঠলেন? মাঠের জাদু দিয়ে কীভাবে গোটা বিশ্বকে এভাবে আপন করে নেওয়া যায়, আমি তাদের মুখ থেকেই তা জানতে চাইতাম।













































