বুধবার । জুন ১০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ১০ জুন ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

কুষ্টিয়ায় কয়েক মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড ৩ গ্রাম


kustia-storm

ঝড়ে গাছ পড়ে ভেঙে গেছে ঘর। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাত্র কয়েক মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে তিনটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সন্তোষপুর, গোপগ্রাম স্কুলপাড়া ও আশেপাশের এলাকার ওপর দিয়ে এই তীব্র ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকশ ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের ঝড়ে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। গোপগ্রাম স্কুলপাড়ার বাসিন্দা জাহেদ জানান, ঝড়ের তীব্রতায় গোপগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরের ঐতিহাসিক শতবর্ষী বটগাছটি উপড়ে পড়েছে।

ঝড়ে সবকিছু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খেটে খাওয়া মানুষ। গোপগ্রামের দিনমজুর মধু শেখ আকুল কণ্ঠে বলেন, “কয়েক মিনিটের ঝড়ে গাছ উপড়ে বাড়িঘর ভেঙে শেষ হয়ে গেছে। গ্রামের কমবেশি সব বাড়িতেই ক্ষতি হয়েছে।”

দুটি সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা চায়না খাতুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ঝড়ে ঘরবাড়ির অনেক কিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার স্বামী থেকেও নেই, দুটি বাচ্চা নিয়ে এখন কোথায় দাঁড়াব? ঘর ঠিক করার মতো কোনো টাকাও নেই। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাহলে আমরা বাঁচতাম।”

গোপগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আলিম সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঝড়ে তিনটি গ্রামে মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে গেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছি।”

খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে আমি নিজেই সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছি। বড় বড় গাছ ভেঙে দুটি বাড়ির ওপর পড়েছে, কিছু তাঁতের মিলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ ভেঙে পরে দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে ইউএনও আরও জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। তালিকা জমা হওয়ামাত্রই সরকারি তহবিল থেকে দুর্গত মানুষের মাঝে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।