
ছবি: সংগৃহীত
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এবার ঘরের মাঠে অজিদের হারিয়ে সেই অধরা স্বপ্নপূরণ ও নতুন ইতিহাস লেখার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে ম্যাচে হারিয়ে চলমান তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররা। আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামবে দুই দল। এই ম্যাচটি জিতলেই নিশ্চিত হবে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়।
গত ম্যাচের স্মরণীয় জয়কে আরো বড় সাফল্যে রূপ দিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ দল। তাদের এই আত্মবিশ্বাসের পারদ উঁচুতে থাকার আরেকটি বড় কারণ হলো সাম্প্রতিক রেকর্ড। এরই মধ্যে ঘরের মাঠে টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। আজ অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে সেটি হবে টানা চতুর্থ সিরিজ জয়, যা দেশের ক্রিকেটে ‘চারে চার’ করার এক অনন্য নজির স্থাপন করবে।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই যেভাবে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ, তাতে সিরিজ জয় এখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
এই মুভর্তে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে হারানোর সুবর্ণ সুযোগ দেখছেন প্রথম ম্যাচের জয়ের অন্যতম নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রথম ওয়ানডে জয়ের পর এই অলরাউন্ডার নিজের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বলব যে, খুব ভালো একটা সুযোগ আছে আমাদের সামনে এই সিরিজটা জেতার। আমরা যদি আমাদের প্রক্রিয়ায় থাকতে পারি, অবশ্যই জেতা সম্ভব এবং আমি থেকে শুরু করে আমাদের সবার সে বিশ্বাসটা আছে।’
মোসাদ্দেকের এ বিশ্বাসকে আরো জোরালো করছে বাংলাদেশ পেস বোলিং বিভাগের দুর্দান্ত ফর্ম। প্রথম ম্যাচে তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা, অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানদের গতির আগুনে পিষ্ট হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটাররা। মূলত এই পেস আক্রমণকে ঘিরেই সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা বাড়ছে ক্রিকেট মহলে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য থাকবে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার। দলটির অধিকাংশ সদস্য তরুণ হলেও তাদের স্কোয়াডে রয়েছে বেশ কয়েকজন মেধাবী ক্রিকেটার। গত ম্যাচের বিপর্যয় ভুলে মিরপুরে নতুন করে শুরু করতে চাইবেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ও ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি দলের প্রতিনিধি হিসেবে জানিয়েছেন, তাদের হাতে এখনো দুটি ম্যাচ রয়েছে এবং তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত। প্রথম ম্যাচটি ভালো না গেলেও দলে কিছু ঘাটতি শুধরে নিয়ে উন্নতি করার সুযোগ আছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
আজ মেহদী হাসান মিরাজদের হাত ধরে মিরপুরের মাঠে শেষ পর্যন্ত কি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে, নাকি অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন গল্প লিখবে— সেটিই এখন দেখার অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।















































