
ফাইল ছবি
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১১৬টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৪৯ হাজার ৯৮২ জন বাংলাদেশি হাজি। দেশে প্রত্যাবর্তনকারী হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ২৮৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪৫ হাজার ৬৯৩ জন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সর্বশেষ বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুন পর্যন্ত দেশে ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৩৫৫ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস ১৮ হাজার ৪৯৭ জন, ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৮ হাজার ৩৯ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৩ লাখ ৯১ জন হাজি। হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১১৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৫০টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৪৬টি এবং ফ্লাইনাস ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত ৪৯ জন বাংলাদেশি হাজি ইন্তেকাল করেছেন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন, মদিনায় ১৩ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা যান।
অন্যদিকে, চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৪৭৩টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে হাজিদের ২৭ হাজার ৩১৫টি ডিজিটাল সেবা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৪১০ জন বাংলাদেশি হাজি, যাদের মধ্যে ২৫ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালগুলোর মধ্যে সৌদি ন্যাশনাল হাসপাতালে ১০ জন, কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে ১ জন, কিং ফয়সাল হাসপাতালে ১ জন, সৌদি জার্মান হাসপাতালে ১ জন, কেয়ার মেডিক্যালে ৩ জন, মক্কা মেডিক্যাল সেন্টারে ৪ জন, হেরা জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, হায়াত ন্যাশনাল হাসপাতালে ১ জন এবং কিং ফাহাদ জেনারেল হাসপাতালে ২ জন ভর্তি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে আগামী ৩০ জুন। হাজিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।












































