cosmetics-ad

শিশুলীগ : রাজনীতির নতুন “দোকান”

sisu-leage

মূল দলের সঙ্গে মিল রেখে নানা সংগঠন খুলে চাঁদাবাজি বা সরকারি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে রাজনীতির এসব ভুঁইফোড় সংগঠন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ‘জাতীয়তাবাদী’ বা ‘জিয়া’ তকমা লাগিয়ে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ‘বঙ্গবন্ধু’ বা ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বা ‘আওয়ামী’ শব্দ ব্যবহার করে গঠন করা হয় এসব সংগঠন। অনুসন্ধান করেছেন হাবিবুল্লাহ ফাহাদ ও তানিম আহমেদ

প্রায় নিয়মিত নানা সেমিনারে বক্তব্য রাখেন প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। আর তাদের নাম শুনেই আপাত গুরুত্বহীন এসব সেমিনারের সংবাদ প্রচার হয় গণমাধ্যমে। বাড়তি হিসেবে সংগঠনের নেতাদের ছবি বা নাম প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। এটাই লাভ ওই নেতাদের।

দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি, দুই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু লোক গড়ে তুলেছেন এসব প্রতিষ্ঠান যেগুলোকে সাংবাদিকরা রসিকতা করে ‘দোকান’ বলছেন। এমনকি নেতারাও তাদের একই নামে ডাকেন।

সম্প্রতি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে একটি আলোচনা সভা শুরু হওয়ার আগে সাংবাদিকদের দেখে এ নিয়ে টিপ্পনি কাটেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘এত ভিড় কেন, দোকান শেষ করে আইছো? নাকি আজ কোনো দোকান নেই?’ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নিজেও সেদিন এমন এক ‘দোকানে’ বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজনৈতিক গুরুত্ব না থাকলেও নেতারা কেন যান এসব সভা-সেমিনারে? সহজ জবাব, প্রতিদিন একই কথা বললেও কোনো একটি সামনে তুলে এনে সংবাদ প্রচার করে গণমাধ্যম, তাই নেতাদের নামটা ঠিকই প্রচার হয়। আর এই সুযোগে ‘খরচ’ তোলার কথা বলে টাকার একটা অঙ্ক ঢুকে আয়োজকদের পকেটে। আবার গণমাধ্যমে নিজেদের ছবি প্রকাশ হলে নামটাও ফোটে। আর এটা ভাঙিয়ে ‘করে খান’ কেউ কেউ।

কোন দল ক্ষমতায় আসলেই সেই দলের ভেতরে বা বাইরের ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে স্বার্থ হাসিলে উঠেপড়ে লাগে। গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, মূল দলের সঙ্গে মিল রেখে নানা সংগঠন খুলে চাঁদাবাজি বা সরকারি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে এরা। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে ’জাতীয়তাবাদী’ বা ‘জিয়া’ তকমা লাগিয়ে গজিয়ে উঠে এসব সংগঠন। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ‘বঙ্গবন্ধু’ বা ‘মুক্তিযুদ্ধ’ বা ‘আওয়ামী’ শব্দ ব্যবহার করে গঠন করা হয় নানা সংগঠন।

মূলত রাজনীতির যেসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা বা সেমিনারের আয়োজন করে এসব সংগঠনের উদ্যোক্তারা। আর প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রচারের চেষ্টা চালায় সংগঠনের নেতারা। আর রাজনৈতিক নেতারা বুঝে বা না বুঝে পা দেয় এসব স্বার্থান্বেষী মানুষের ফাঁদে। এভাবে দলের নাম ব্যবহার করে তাদের নানা কর্মকান্দডে বদনাম হয় দলের। তবু নেতারা বিষয়টি নিয়ে সচেতন নন।

গত মাসের শুরুতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের যৌথসভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে কোনো ভুঁইফোড় সংগঠনের অনুষ্ঠানে না যেতে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমন বেশ কিছু সংগঠন গড়ে উঠা এবং সেগুলোর নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্রে না থাকলেও এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে বিএনপি সে সময় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরও একই ধারাবাহিকতা দেখা দেয়। বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে উঠে অনেক সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরেও অনেক সংগঠন গড়ে উঠছে।

ক্ষমতায় না থাকলেও বিএনপিপন্থিদের ‘দোকান’-এর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় ফিরলে আগে থেকেই নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টায় প্রায়ই নানা আলোচনা সভা বা অন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসব সংগঠনের উদ্যোক্তারা। সমালোচনা থাকলেও নেতার অভাব কখনই পড়েনি এসব আয়োজনে। এই সুযোগে নিজেদের বিএনপির সহযোগী সংগঠন বলে দাবি করে আসছেন এসব সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা। বিরোধী দলে থাকলেও এসব সংগঠনের বিরুদ্ধেও আছে চাঁদাবাজির অভিযোগ।

বছর দুয়েক আগে বেশ কিছু সংগঠন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়েও আলোচনা হয়। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ নিয়ে বিবৃতি পর্যন্ত দেন। তিনি জানান, বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়া দেশের ভেতর বা বাইরে অন্য কোনো সংগঠন নেই। জাতীয়তাবাদ বা জিয়াউর রহমানের নাম ব্যবহার করে চলা এসব সংগঠনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

রিজভীর এই বিবৃতির পর ফুঁসে ওঠে প্রায় অর্ধশতাধিক বিএনপি সমর্থিত সংগঠনের নেতারা। এসব সংগঠনের নেতারা রিজভীকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যখন বিএনপি নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে পারেন না তখন তাদের কারণেই বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পান।

এবার এলো শিশুলীগ

তবে সম্প্রতি শিশুদের নিয়ে এমন একটি সংগঠন গড়ে উঠেছে যার নাম শিশু-কিশোর লীগ। এ ধরনের সংগঠন এর আগে কখনো গড়ে উঠেনি। এমনকি আওয়ামী লীগ নেতারাও এ নিয়ে বিব্রত। তবু চলছে সংগঠনের কাজ। ফয়সাল আহম্মদ মুন্সী নামে একজন এই সংগঠনের উদ্যোক্তা। ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি।

শুরুতে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন ফয়সাল। বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো না ভাই। তাই সংগঠনটাকে এগিয়ে নিতে পারছি না। কিসের ব্যবসা করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জমি বেচাকেনার কাজ করি। কিন্তু এখন জমি কেনার ক্রেতা পাই না। বিক্রি কমে গেছে।’ আরও একটি ব্যবসার কথা জানালেন এই ব্যক্তি। ছাত্রলীগ তো ছাত্রদের সংগঠন কিন্তু আপনি ব্যবসায়ী হয়ে কীভাবে এই পদে আছেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি পড়ি তো। এখনো পড়াশোনা করি।’

‘কোথায় পড়েন?’

‘আমাদের বাজারে, ওখানে পড়ি।’

‘বাজারে কী পড়েন, বাজারে পড়াশোনা করা যায় নাকি?’

‘বাজারে একটা মাদরাসায় পড়ি। ফাজিল ক্লাসে, যেটা বাংলায় বিএ।’

এই সংগঠনের নামে একটি লোগোও বানানো হয়েছে। অর্ধসূর্যের আলোর বিকিরণের ওপর ফিডার এবং শিশুদের খেলনা জাতীয় কিছু একটার ছবি দেওয়া। নিচে গোটাগোটা অক্ষরে লেখা, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী শিশুলীগ।’

এ ধরনের লোগো তৈরির কারণ কী? জানতে চাইলে ফয়সাল মুন্সী বলেন, ‘আমার চিন্তায় যা এসেছে তাই করেছি। কেন খারাপ হয়েছে নাকি?’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো হচ্ছে যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতীলীগ। ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রয়েছে ছাত্রলীগ ও শ্রমিকলীগ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিশুলীগ বা এ জাতীয় কোনো সংগঠন করার নিয়ম নেই।

বরং শিশুদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা বেআইনি। আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল ইউনিসেফও স্পষ্ট বলে দিয়েছে, রাজনৈতিক কোনো কাজে শিশুদের ব্যবহার অনুচিত। কিন্তু তারপরও এই ধরনের সংগঠন করার কারণ কী? জবাবে প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল মুন্সী বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। বঙ্গবন্ধু গড়ার দল।’

‘বঙ্গবন্ধু গড়ার দল মানে?’

‘আসলে ভাই আমাদের উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু তৈরি করা। এখান থেকে বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষ তৈরি হবে। শিশুদের এভাবে গড়ে তোলা হবে।’

‘কিন্তু বঙ্গবন্ধু কি চাইলেই তৈরি করা যায়?’

‘যাবে না কেন, আমরা চেষ্টা করব। বিভিন্ন ধরনের পাঠচক্র করে শিশুদের বঙ্গবন্ধুর মতো গড়ে তুলব। যদি একজন বঙ্গবন্ধুও আমাদের সংগঠন থেকে বানাতে পারি তাহলেই আমরা সার্থক।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’ তৈরির এমন অভিনব সংগঠনের ব্যাপারে জানতে চাইলে সবাই ক্ষেপে যান। অনেকে ফোনও কেটে দেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কি তামাশা করার দল? কোথাকার শিশুলীগ। কারা এসব করে? ফালতু লোকজন এসব করে বেড়াচ্ছে। এদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্য বলেন, ‘স্রেফ রাজনীতির দোকানদারি। আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির চিন্তা। এগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে। কারণ, এসব ভিত্তিহীন সংগঠনের কারণে মূল সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

সংগঠনটি দুবছর ধরে পরিচালনা করছেন বলে জানান ফয়সাল আহম্মদ মুন্সী। অথচ এখন পর্যন্ত এর কোনো কেন্দ্রীয় কমিটি নাকি করতে পারেননি তিনি। কারণ কী? জানতে চাইলে বলেন, ‘ভাই টাকা পয়সার অভাব। টাকা হাতে এলে কমিটি করব। তবে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির ফরমেট তৈরি হয়ে গেছে। ডেমরার তিনটি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ডেমরার আমতলা ইউনিয়ন শিশুলীগের সভাপতি ইভান।’

প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া শিক্ষার্থীরাই কেবল শিশুলীগ করতে পারবে জানিয়ে ফয়সাল বলেন, ‘আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। প্রত্যেক বাবা-মা শিশুদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু নেতা হওয়ার, বঙ্গবন্ধুর মতো হওয়ার স্বপ্ন কেউ দেখায় না। তাদের জন্যই এই সংগঠন। তাই তাদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ছোট সময় থেকেই গড়ে তুলে নেতা বানানোর জন্য আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এই সংগঠন থেকেই আগামীতে কেউ না কেউ বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠবে, জাতির হাল ধরবে।’

ডেমরা থানা ছাত্রলীগের এই নেতা জানান, শিশুলীগের সভাপতি কাকে করা হবে সেই পরিকল্পনাও হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাতিকে সভাপতি করা হবে। ফয়সাল বলেন, ‘আমরা নিতে না চাইলেও অনেক সময় আমাদের সঙ্গে চলে আসে শিশুরা। শোক দিবসে শিশুদের নিয়েও নানা অনুষ্ঠান করি। শিশুলীগের সদস্যদের ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও আমি করেছি।’ পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার পর উপদেষ্টা পরিষদে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও কত সংগঠন

সরকার সমর্থকদের এখন পর্যন্ত নামসর্বস্ব এমন ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক ‘দোকান’ এর নাম পাওয়া গেছে। কেউ কেউ বলেন এই সংখ্যা প্রায় একশ হবে। বিএনপি সমর্থকদের ‘দোকান’ও আছে ৬০টির বেশি।

নামসর্বস্ব এসব রাজনৈতিক ‘দোকান’ এর বিরুদ্ধে আছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগ। এ নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়েও কথা হয়েছে একাধিকবার। তাই বলে নেতাদের কাছে গুরুত্ব হারায়নি সংগঠনগুলো। ‘দোকান’ এর অনুষ্ঠানে ঘুরেফিরে যাচ্ছেন নেতারা।

সূত্র জানা গেছে, এসব দোকান-এর ব্যানারে এর উদ্যোক্তারা তদবির বাণিজ্য করেন। আবার প্রচারপ্রিয় নেতা বা ব্যবসায়ীদের কারও কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি করা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নামসর্বস্ব এসব সংগঠনের কার্যত কোনো কমিটি, কার্যালয় বা গঠনতন্ত্র নেই। কিছু সংগঠন ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে তাদের দলীয় কার্যালয় হিসেবে প্যাডে উল্লেখ করে থাকে। ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের’ চেতনায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে সুবিধা আদায় করার অভিযোগ আছে এসব কথিত সংগঠনের অনেকের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলাসহ কয়েকটি সংগঠন ছাড়া বেশির ভাগেরই অস্তিত্ব কাগজে-কলমে। একই ব্যক্তি একাধিক সংগঠনের মালিক। একেক দিন একেক সংগঠনের নামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তারা। প্রায় সব অনুষ্ঠানে ঘুরেফিরে একই ব্যক্তিদের দর্শক-শ্রোতার আসনে দেখা যায়।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘দেশরতœ সেবক সংঘ’ নামে একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটির প্রথম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এর দুই দিন পর ‘দেশরতœ সেবক পরিষদ’ নামে আরেকটি সংগঠন আলোচনা সভার আয়োজন করে। তাতেও খাদ্যমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি করা হয়। সংগঠন দুটিরই প্রতিষ্ঠাতা একজন।

গণতন্ত্র রক্ষা পরিষদ, জনতার প্রত্যাশা, স্বাধীনতা পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু মানবকল্যাণ পরিষদসহ নানা নামে ৩৪টির বেশি কাগুজে সংগঠনের উদ্যোক্তা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

মহানগর আওয়ামী লীগের আরও এক নেতা গড়ে তুলেছেন ২২টি সংগঠন। এই দুজনের ৫৬টি সংগঠনের প্রায় সব কটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নাম ব্যবহার করে। এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করেও কিছু সংগঠন বানিয়েছেন তারা।

‘বঙ্গবন্ধু একাডেমি’ ও ‘নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী’র ব্যানারে সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার প্রায় নিয়মিত আলোচনা বা মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠন দুটির সভাপতি ও মহাসচিব দুটি পদের দাবিদার হুমায়ুন কবির মিজি। মিজির আরেকটি সংগঠন আছে যার নাম হলো ‘আমরা মুজিব হবো’।

মিজি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে জনগণের সামনে আমরা কথা বলি। আর যদি প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেন যে, আমার পক্ষ হয়ে কথা বলার দরকার নেই তাহলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দেবো।’ এসব অনুষ্ঠান করার খরচ কে দেয় জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সংগঠনের নেতা ও ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবসায়ীদের সহায়তা নেওয়া হয়।’

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নামের সংগঠনটি সাতভাগে ভাগ হয়ে গেছে। নেতৃত্বে আছেন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক আসাদুজ্জামান দুর্জয়, ফয়েজ উল্লাহ, ফাতেমা জলিল সাথী, মাহমুদুর রহমান রাজা, কেটু। সংগঠনের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন দুর্জয় ও কেটু। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় থাকলে এমন অনেক ভুঁইফোড় সংগঠন গজিয়ে উঠে। কেউ যদি এ সব ব্যানারে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরকারপন্থিদের কিছু ‘দোকান’

জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ ২. জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ ৩. আওয়ামী প্রচার লীগ ৪. আওয়ামী সমবায় লীগ ৫. আওয়ামী তৃণমূল লীগ ৬. আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ ৭. আওয়ামী মোটরচালক লীগ ৮. আওয়ামী তরুণ লীগ ৯. আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ ১০. আওয়ামী যুব হকার্স লীগ ১১. আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ ১২. আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ ১৩. আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ ১৪. আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ ১৫. আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ ১৬. আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট ১৭. বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ ১৮. বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ ১৯. বঙ্গবন্ধু একাডেমি ২০. বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ ২১. বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, ২২. বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ ২৩. বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ ২৪. বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, ২৫. বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ ২৬. বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ ২৭. বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ ২৮. বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন ২৯. বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ ৩০. বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ ৩১. বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ ৩২. বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ ৩৩. বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ ৩৪. বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ ৩৫. বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ ৩৬. আমরা মুজিব সেনা ৩৭. মুজিব হবো ৩৮. চেতনায় মুজিব ৩৯. বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ৪০. মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ ৪১. নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী ৪২. দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ৪৩. ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ৪৪. ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ ৪৫. নৌকার নতুন প্রজন্ম ৪৬. ডিজিটাল ছাত্রলীগ ৪৭. ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ ৪৮. ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ ৪৯. বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ ৫০. ঠিকানা বাংলাদেশ ৫১. জনতার প্রত্যাশা ৫২. রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি ৫৩. জননেত্রী পরিষদ ৫৪. দেশরতœ পরিষদ ৫৫. বঙ্গমাতা পরিষদ ৫৬. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ ৫৭. আমরা নৌকার প্রজন্ম ৫৮. আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট ৫৯. তৃণমূল লীগ ৬০. একুশে আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি ৬১. আওয়ামী প্রচার লীগ।

বিএনপির সমর্থক ভুঁইফোড় কিছু সংগঠন

হৃদয়ে বাংলাদেশ ২. জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন ৩. জিয়া নাগরিক ফোরাম (জিনাফ) ৪. নাগরিক ফোরাম ৫. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সেবা দল ৬. জাতীয়তাবাদী বন্ধুদল ৭. ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল ৮. নাগরিক মঞ্চ ৯. স্বাধীনতা ফোরাম ১০. বাংলাদেশ উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিষদ ১১. সমবায় দল ১২. নাগরিক দল ১৩. অপরাজেয় বাংলাদেশ ১৪. সেবা পার্টি ১৫. সাংবিধানিক অধিকার ফোরাম ১৬. জাতীয়তাবাদী বাস্তুহারা দল ১৭. ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশ ১৮. জিয়া ব্রিগেড ১৯. মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ২০. জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল ২১. জিয়া সেনা ২২. জাতীয় মানবাধিকার সমিতি ২৩. জিয়া ন্যাশনালিস্ট ফোরাম ২৪. বাংলাদেশ সচেতন যুব সমাজ ২৫. বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক একাডেমি ২৬. জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল ২৭. বাংলাদেশ মানবাধিকার ফোরাম ২৮. স্বদেশ মঞ্চ ২৯. চিরন্তন বাংলাদেশ ৩০. সুশীল ফোরাম ৩১. প্রজন্ম একাডেমি ৩২. দেশনেত্রী সাংস্কৃতিক পরিষদ ৩৩. দেশপ্রেমিক ফোরাম ৩৪. জনতার ধ্বনি ৩৫. জিয়া স্মৃতি সংসদ ৩৬. জিয়া আদর্শ একাডেমি ৩৭. তৃণমূল দল ৩৮. চেতনায় ’৭১ ৩৯. জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ৪০. চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা ৪১. জাতীয়তাবাদী নাগরিক সংসদ ৪২. স্বদেশ জাগরণ পরিষদ ৪৩. জাতীয়তাবাদী বাউল দল ৪৪. জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী কল্যাণ পরিষদ ৪৫. জিয়া সাংস্কৃতিক পরিষদ ৪৬. জিয়া পরিষদ ৪৭. ন্যাশনাল ইয়ুথ ফোরাম ৪৮. সচেতন নাগরিক সমাজ ৪৯. আজকের প্রজন্ম ৫০. জিয়ার সৈনিক ৫১. জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন ৫২. খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ ৫৩. তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ ৫৪. জিয়া স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ ৫৫. দেশনেত্রী পরিষদ ৫৬. তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ ৫৭. শহীদ জিয়াউর রহমান আদর্শ বাস্তবায়ন পরিষদ ৫৮. জাতীয়তাবাদী কৃষি আন্দোলন ৫৯. মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম।(ঢাকাটাইমস২৪)