cosmetics-ad

সিলেটে প্রকাশ্যে নারী পেটানোর দৃশ্যে ফেইসবুকে তোলপাড়

Sylhet-woman

সিলেট নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা আম্বরখানায় রাস্তায় এক নারীকে পেটানোর ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।

ওই নারীকে পেটানোর ছবি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে ঘুরছে ফেইসবুকের প্রোফাইলে প্রোফাইলে। ওই নারীকে পেটানোর জন্য টেইলার্স মালিক তপু আহমদকে গ্রেপ্তারের দাবিও উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে কালো রঙের বোরকা পরা এক নারীকে মারধর করছেন তপু। আশপাশে অনেকে দাঁড়িয়ে তা দেখছেন, সড়কে তখন গাড়িও চলছে।

হামলাকারী ব্যবসায়ী তপু স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ তোফায়েল আহমদ সেফুলের ভাই। সেফুল প্রজন্ম লীগের সিলেট মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি।

এ ঘটনার পর পুলিশ ওই ব্যবসায়ীকে থানায় নিয়ে গেলেও পরে ছেড়ে দেয়। ওসির দাবি, মেয়েটি পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আম্বরখানা সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে তপু ওই নারীকে মারধর করলে ওই এলাকায় কর্তব্যরত হাবিলদার নাজিম উদ্দিন এসে দুজনকে আম্বরখানা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান।

মারার কারণ জানতে চাইলে তপু প্রত্যক্ষদর্শীদের বলেন, ওই নারী তার মালিকানার তপু টেইলার্সে কাজ করতেন। কয়েক দিন আগে সেলাই করে দেওয়ার কথা বলে কাপড় নিয়ে গিয়ে আর তা ফেরত দেয়নি। মঙ্গলবার এসে কাপড় ফেরত না দিয়ে ‘উল্টাপাল্টা’ কথা বলায় মারধর করেন বলে তপুর দাবি।

তবে ওই নারীর অভিযোগ, তার কয়েক মাসের বেতন পাওনা। বারবার ধর্না দিয়েও তিনি তা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার টাকা চাইতে এলে তপু প্রথমে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। পরে রাস্তায় ফেলে তাকে মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে হাবিলদার নাজিম উদ্দিন বলেন, “জনতা এক ব্যবসায়ী ও এক নারীকে ঘিরে রেখেছে দেখে আমি দুজনকে ফাঁড়িতে নিয়ে যাই। এরপর আর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”

বিমানবন্দর থানার ওসি গৌসুল হোসেন বলেন, “তাদের থানায় আনা হলে সমঝোতা করে দিয়ে দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই নারী কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মারধরের সময় আশ পাশে যার দাঁড়িয়ে দেখছিল, তাদের সমালোচনা করে ফেইসবুকে মোহাম্মদ বাশার নামে একজন লিখেছেন, “কাপুরুষ ছাড়া মেয়েটার সাথে এই আচরণ কেউ করতে পারে কি? যারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে তাদেরকে কী বলব?

নারগিস আলম নামে একজন লিখেছেন, “এরা সমাজের মানুষ নামে কলঙ্ক। এদের যেন সঠিক বিচার হয়।”

এ ধরনের অপরাধের জন্য বিচারহীনতাকেও দায়ী করেছেন অনেকে।

দীপ্ত মজুমদার নামে একজন লিখেছেন, “যতদিন শাস্তি না হবে ততদিন এইরকম অনেক অপরাধ আমাদের সবাইকে সইতে হবে।”

সাব্বির আহমেদ নামে এক ফেইসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “দেশে কোনো সুষ্ঠু আইনের শাসন নেই। এই জন্য অপরাধ করে ও অপরাধী পার পেয়ে যায় এবং অপরাধের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।”