sentbe-top

রহম আলীর অন্যরকম বেঁচে থাকা

rohom-aliদীর্ঘ সময় ধরে অন্যরকম অমানবিক জীবন যাপন করছেন রহম আলী (৪৯) নামে এক ব্যক্তি। তার জীবনের ৩৬ বছর চলে গেছে ৩ ফুট লম্বা কাঠের একটি পিঁড়িতে। নিথর, নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকেন পথের ধারে। তার হাত-পা কোনটাই কাজ করে না। পা দু’টো সংকোচিত হতে হতে কোমরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। প্রথমে দেখলেই মনে প্রশ্ন জাগবে লোকটা জীবিত নাকি মৃত! অচল থাকলেও রহম আলী বেশ স্পষ্ট করেই কথাবার্তা বলতে পারেন। এ যেন মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির এক অমানবিক খেলা।

সড়কের একপাশে কাঠের পিঁড়িতে শোয়া অবস্থা দেখা গেছে রহমত আলীকে। সাধারণ মানুষের মতো রহম আলীরও আবেগ ও অনুভূতি আছে; আছে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্নও। মুক্তমনে চলাফেরা আর বউ সন্তানের প্রত্যাশাও ছিল তার। কিন্তু খেয়ালি প্রকৃতি তার সে স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে কিশোর বয়সেই।

এখন তার বয়স ৪৯ বছর পার হতে চলছে কিন্তু সুন্দর পৃথিবীতে উপভোগ করতে পারলেন না কোনো কিছুই। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ওই সব তথ্য। রহম আলী বলেন, ‘মেম্বার চেয়ারম্যানরা তো আমগর দেহে না। ট্যাহা ছাড়া একটা নামও নেয় না। তাগরে ট্যাহাও দিবার পারি না, নামও ওঠে না। হেই যে কোরবানি ঈদে গোশত খাইছি। হের পর আর চোহে দেহি নাই। এই যে দেখছেন বাডি, এইডাতে পয়সা পড়লে খাবার পারি। নাহলে উপাষ থাকা নাগে।’

রৌমারী উপজেলার চাকতাবাড়ি গ্রামে দরিদ্র ঘরে জন্ম রহম আলীর। বাবা রহমত মোল্লা মারা গেছেন অনেক আগেই। মা রহিমা বেগম মারা গেছে দুই বছর আগে। রহম আলীর দুই বোন সোনাবান বেগম (৩৬) ও রওশনারা বেগম (৩২)। যৌতুক দিতে না পারায় স্বামীর ঘর ছাড়তে হয় তাদের।

তার বোন সোনাবান বেগম বলেন, ‘ভাইর বয়স যখন ১২ বছর তখন তার জ্বর হয়ছিল। মাইনসে কইত ‘বাসাত’ নাগছে। আবার কেউ কেউ কইছিল টাইফয়েড জ্বর। মেলা কবিরাজির চিকিৎসা, ঝাঁড়-ফুক করা হয়েছে কিন্ত ভালা অয়নি। আস্তে আস্তে তার হাত পা অবোস হতে থাকে। চলাফেরাও বন্ধ হয়ে যায়। বিছানায় থাকতে থাকেত তার বর্তমান এ অবস্থা হয়েছে।’

সোনাবান আরো বলেন, ‘আমার দুই সন্তান যখন ছোট তখন গেদার বাপে আমগর বাড়ি থিকা বাইর কইরা দেয়। সেই থেকে পঙ্গু ভাইর সেবা করছি। আস্তায় মাটি কাইটা খাই। আমার বোনটাও কাটে। মেম্বারগরের পিছন ঘুরতে ঘুরতে এইবার এডা ভিজিডি নাম পাইছি। আমগর কোনো জমি জমা নাই। আস্তায় থাকি।’

সংশ্লিষ্ট চাকতাবাড়ি এলাকার ইউপি মেম্বার আব্দুস সালাম জানান, পঙ্গু রহম আলী ও তার দুই বোনের অভাব অনটনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। এ কারণে রহম আলীকে পঙ্গু ভাতা আর তার এক বোনকে ভিজিডি তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে। এছাড়া যখন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা আসে আমরা চেষ্টা করি তাদের দেয়ার জন্য।’

sentbe-top