সোমবার । মার্চ ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার

সিউলে অমর একুশের বর্ণাঢ্য আয়োজন


বর্ণাঢ্য আয়জনের মধ্য দিয়ে সিউলে অমর একুশে পালন করলো দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসীরা। মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কোরিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিউলের ইথেউওনে জড়ো হয়। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত। প্রাণ দিয়ে সমুন্নত করেছিলেন বাংলাভাষাকে। এখন অমর একুশে আর বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির পর সারাবিশ্বেই পালন হচ্ছে এই দিনটি।

অক্ষর সমাবেশ ও র‍্যালী

2016-02-22 00.24.45বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া (বিসিকে) এর উদ্যোগে অমর একুশে উতযাপন শুরু হয় ইথেউওন স্কয়ারে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, অক্ষর সমাবেশ এবং ইথেউওনে র‍্যালীর মাধ্যমে বিসিকের অমর একুশে উতযাপন শেষ হয়। র‍্যালীর নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূ জুলফিকার হাসান। র‍্যালী শেষে সংক্ষিপ্ত এক সবাইকে ধন্যবাদ জানান একুশে উতযাপন পরিষদের প্রধান মিজানুর রহমান।

দূতাবাসে অমর একুশে উতযাপন

বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে সিউলে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা অতিথিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সকালে দিনের কর্মসূচী উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ জুলফিকার রহমান। এরপর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পুস্পস্তবক অর্পনের পর দূতাবাসে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং শহীদ দিবস উপলক্ষে মহামন্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেয়া বানী পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সূচনা করা হয়। আলোচনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিথি স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নেন। তাঁরা ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে ভাষা আন্দোলনের গুরত্বকে তুলে ধরেন। তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাভাষা-ভিত্তিক স্কুল চালু করার ও এখানে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবী জানান। বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালী সংস্কৃতির উপর বিদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির আগ্রাসনের ব্যাপারে তাঁরা তাঁদের শঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি শ্রদ্ধাভরে ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের স্মরণ করেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠায় দূতাবাস ইতোমধ্যে উদ্যোগ গ্রহন করেছে বলে তিনি উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন এবং এই উদ্যোগ সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক পরিসরে দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যের দিকসমূহ তুলে ধরে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে মর্মে আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা পর্বের শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলা গানের পাশাপাশি সাঁওতালি গান, কোরিয়ান এবং তূর্কী ভাষায় গান পরিবেশনের ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের একটি সুন্দর আবহ সৃষ্টি হয়। অতিথিদের সাগ্রহ অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পূর্ণতা পায়।

FB_IMG_1456067827356অনুষ্ঠানের আগের দিন দূতাবাসে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন এবং অনুষ্ঠানস্থল অলংকরনের জন্য দিনভর প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থল অমর একুশের পোস্টার ও ব্যানারে এবং আলপনায় সুসজ্জিত করা হয়।

দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।