cosmetics-ad

দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হচ্ছেন বান কি মুন!

নিজ দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে আভাস দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি খবরটি নিশ্চিত করেছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব পদে মুনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই ডিসেম্বরেই।

bankimun

সংস্থাটির প্রধান হিসেবে সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে বান কি-মুন বলেন, কিছু সময় বিশ্রাম নেয়ার পর তিনি তার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরে যাবেন। সেখানে ফিরে কিভাবে তার দেশকে সবচেয়ে ভালভাবে সহায়তা করা যায় তা ভেবে দেখবেন। এখান থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে।

দ. কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট পার্ক এর প্রতি সে দেশের জনগণের তীব্র অনাস্থা এবং সংসদে তার অভিশংসনের পক্ষে রায় আসার কয়েকদিনের মাথায় মুন এই ঘোষণা দিলেন। আর সে কারণেই মুনের বক্তব্যকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ. কোরিয়ায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট পার্ক এর পদত্যাগের একদফা দাবিতে বেশকিছুদিন ধরে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছিল দেশটিতে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ছোয়ে সুন সিল নামে তার এক গুরু কন্যাকে দিয়ে অবৈধ কাজ করিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে অনুমতি না দিয়ে ওই নারীকে বিভিন্ন সরকারি দফতরে প্রবেশের ক্ষমতা দিয়েছিলেন তিনি। এতে দেশটির আইন লঙ্ঘন হয়েছে। পার্কের গুরুকন্যা এই মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়া পুলিশের হাতে বন্দি। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানি থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, এসব কাজ করার জন্য প্রেসিডেন্ট পার্ক তাকে সহায়তা করেন।
ঘটনার বিপরীতে ধারাবাহিক বিক্ষোভের এক পর্যায়ে গত সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বর্তমান প্রেসিডেন্ট পার্ক অভিশংশিত হন।

park-and-choiদেশটির সাংবিধানিক আদালত গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত অভিশংসন ভোটটি বহাল রাখলে তিনিই হবেন দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক যুগের প্রথম ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট। সাংবিধানিক আদালতকে ১৮০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে হবে। আর সেই রায় প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যেই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অবিলম্বে পার্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে পদচ্যুত করার জন্য সমাবেশ থেকে দেশটির সাংবিধানিক আদালতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টানা ৮ সপ্তাহ ধরে পার্কের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ এবং সংসদে তার অভিশংসনের পক্ষে রায় আসার পরপরই  বান কি-মুনের ঘোষণাটি এলো।

২০১২ সালে নির্বাচিত হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পার্ক। আগামী বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ক্ষমতায় থেকে নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এজন্য পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো দাবি নেই আন্দোলনকারীদের।