cosmetics-ad

বিদেশ পাড়ি দেওয়ায় বাংলাদেশ পঞ্চম

তথ্যসূত্র: ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউট
প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা জীবিকার তাগিদে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যান। উন্নত জীবনই তাঁদের প্রত্যাশা। এমন অভিবাসীদের নিয়ে কয়েক বছর ধরেই জোর আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অভিবাসী গোষ্ঠী হলো বাংলাদেশের নাগরিকেরা। অর্থাৎ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বাংলাদেশের প্রায় ৭০ লাখ নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশিদের চেয়ে বেশি অভিবাসী হলো ভারত, মেক্সিকো, রাশিয়া ও চীনের। এসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে এক কোটির বেশি অভিবাসী জীবন যাপন করেন।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম হলো ‘পিপল অন দ্য মুভ: গ্লোবাল মাইগ্রেশনস ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড অপরচুনিটি’। চলতি ডিসেম্বর মাসেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউট হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী গবেষকদের প্ল্যাটফর্ম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সারা বিশ্বে ২৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে জীবিকার তাগিদে অন্য দেশে অভিবাসী জীবন যাপন করছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিবাসী সবচেয়ে বেশি। ১ কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাস করেন। ভারতের পরের স্থানে আছে মেক্সিকো। মেক্সিকোর অভিবাসী সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ। এ ছাড়া রাশিয়ার ১ কোটি ১০ লাখ ও চীনের ১ কোটি মানুষ অভিবাসী। আর বাংলাদেশের পরের পাঁচটি দেশ হলো যথাক্রমে সিরিয়া, ইউক্রেন, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও আফগানিস্তান। অভিবাসীদের ৫০ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পাড়ি দিয়েছেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ অভিবাসীর শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ পেশাগত উচ্চ দক্ষতা আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে অভিবাসীদের মধ্যে মাথাপিছু রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বেশ কম। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু রেমিট্যান্সের পরিমাণও বাংলাদেশের চেয়ে ভালো। তিনি মনে করেন, দক্ষতার অভাবের কারণে অভিবাসী বাংলাদেশিরা বেশি উপার্জন করতে পারেন না। তাই সরকারের উচিত কোন দেশে কী ধরনের শ্রমের চাহিদা তা নিরূপণ করা। সেই অনুযায়ী, দক্ষ কর্মী তৈরি করা। এ ছাড়া বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যে দুর্নীতি আছে, তা নিরসন করা।
অভিবাসী গন্তব্য কোথায়—এমন শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে ম্যাককিনসে গ্লোবাল ইনস্টিটিউট। সেখানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৪ কোটি ৭ লাখ অভিবাসী বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রে। এর পরে ১ কোটি ২০ লাখ করে অভিবাসী থাকেন জার্মানি ও রাশিয়ায়। আর সৌদি আরবে প্রায় ১ কোটি অভিবাসী আছেন। তালিকার অন্য দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যাঁরা অভিবাসী হন; তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশই অর্থনৈতিক কারণেই অপেক্ষাকৃত উন্নত দেশে যান। সেই হিসাবে, প্রায় ২০ কোটি অভিবাসী শুধু জীবিকার তাগিদেই অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন। আর বাকি ২ কোটি ৪৭ লাখের অর্ধেকই নিজের দেশে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে কিংবা রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে অন্য দেশে গেছেন।
এ ছাড়া বর্তমানে সারা বিশ্বে যত জনসংখ্যা আছে; এর মধ্যে ৩ দশমিক ৪ শতাংশই অভিবাসী। আর বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৯ দশমিক ৪ শতাংশে অবদান রাখেন এসব অভিবাসী। ২০১৫ সালের হিসাবে, বিশ্ব জিডিপিতে অভিবাসীদের অবদান ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলার থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে অভিবাসীদের অবদান ২ লাখ কোটি ডলার। আর জার্মানির জিডিপিতে অবদান ৫৫ হাজার কোটি ডলার। এ ছাড়া জিডিপির হিসাবে যুক্তরাজ্যে ৩৯ হাজার কোটি ডলার, অস্ট্রেলিয়ায় ৩৩ হাজার কোটি ডলার ও কানাডায় ৩২ হাজার কোটি ডলার অবদান রেখেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভাষাজ্ঞানে ও শ্রমদক্ষতার অভাবে স্থানীয় লোকদের তুলনায় অভিবাসীদের কাজের সুযোগ কম থাকে। এতে করে স্থানীয় লোকদের তুলনায় অভিবাসীদের মধ্যে বেকারত্বের হার একটু বেশি। তবে স্থানীয় লোকদের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম মজুরি পান অভিবাসীরা। অভিবাসীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে স্থানীয় লোকদের সঙ্গে মজুরির পার্থক্য কমে আসবে। এতে বিশ্ব জিডিপিতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ কোটি ডলার বাড়তি যুক্ত হবে।
গত ৫০ বছরে সারা বিশ্বে অভিবাসীদের সংখ্যা তিন গুণ হয়েছে। শুধু ২০১৫ সালেই প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ জীবিকার সন্ধানে নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গেছে। সারা বিশ্বে যত অভিবাসী আছে, তাদের ৬৫ শতাংশের বাস উন্নত দেশে। আবার ৮০ ভাগ অভিবাসীই উন্নয়নশীল দেশ থেকে যায়। উন্নত দেশের শ্রমশক্তির কলেবর বৃদ্ধি করেছে এই অভিবাসীরা। সূত্র প্রথম আলো।