sentbe-top

নাটকীয় টাইব্রেকারে ডেনমার্ককে হারিয়ে কোয়ার্টারে ক্রোয়েশিয়া

qraishiaবিশ্বকাপের আসল রঙ বুঝি এটাই। এক দল আনন্দে উল্লাসে মাতবে অন্য দল চোখের জলে বিদায় নিবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় টাইব্রেকারের সাক্ষী হলো রাশিয়ার নভগরদ স্টেডিয়াম। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় থাকলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকে। সেখানেও চলে নাটক।

দু দলের ফুটবলারই তাদের প্রথম শট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তী দুটি শটে ঠিকই গোল করে ২-২ সমতায় থাকে। চতুর্থ শটে গিয়ে আবার পেনাল্টি মিস করে বসে দু দলের ফুটবলার। কিন্তু শেষ শটে এসে আর সতীর্থদের ভুলের পুনরাবৃত্তি করেননি ইভান রাকিতিচ। পঞ্চম শট ডেনমার্কের ইয়ার্গেনসেন মিস করলেও ঠিকই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন রাকিতিচি।

রঙ হারানো বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের চতুর্থ ম্যাচে তুমুল উত্তেজনা দেখল সবাই। ইউরোপের শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়াকে বেশ ভালোভাবেই রুখে দেল আরেক ইউরোপিয়ান দেশ ডেনমার্ক। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় থেকে শেষ করে দু’দল। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোন দল গোল না করতে পারলে টাইব্রেকারেই ডেনমার্ককে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে ক্রোয়েশিয়া।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে আসে ক্রোয়েটরা। অন্যদিকে, গ্রুপে অপরাজিত থাকলেও মাত্র একটি ম্যাচেই জয়ের হাসি হাসতে পেরেছিল ডেনমার্ক।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ। কিন্তু সবাইকে অবাক ম্যাচের মাত্র ৫৭ সেকেন্ড গোল করে ডেনমার্কে ভাগ্যপ্রসূত লিড এনে দেন ইয়ার্গেনসেন। ডেলায়নির পাস থেকে ডি বক্সের ভেতর জটলা থেকে নেওয়া শট ক্রোয়েট গোলরক্ষক সুবাসিচের পায়ে লেগে জালে জড়ালে কোন কিছু বোঝার আগেই গোল খেয়ে বসে ক্রোয়েশিয়া।

তবে সমতায় ফিরতেও সময় নেয়নি ক্রোয়েশিয়া। ৩ মিনিটের মাথায় মানজুকিচ দারুণ এক গোল করলে তিন মিনিটের ভেতরেই দুই গোল দেখে বসে নভগর্দ স্টেডিয়ামের সবাই।

২০ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর নুডসেন মানজুকিচকে ফেলে দিলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। ৩৯ মিনিটে কর্নার থেকে বাড়ানো বলে লভরেনের শট ডান ক্রসবারের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে ৫৮ শতাংশ বল নিজেদের দখলে নিলেও আর কোন গোলের দেখা পায়নি ক্রোয়েশিয়া। ফলে ১-১ সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বল নিজেদের দখলে নিয়ে খেলতে থাকে ডেনমার্ক। ৫৬ মিনিটে ডেনমার্কের ব্র্যাথওয়েটের শট গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৬১ মিনিটে এরিকসেনের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ানে ভালো বোঝাপড়ায় পৌলসেন শট নিলেও তা গোলের দেখা পায়নি।

৭২ মিনিটে গোলের দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ডেনমার্কের নিকোলাই ইয়ার্গেনসেন। কিন্তু ডি বক্সের ভেতর থেকে সোজা তিনি গোলরক্ষকের নিকট বলটি মারেন। ডেনমার্কের আক্রমনে দিশেহারা হয়ে ৭৭ মিনিটে মদ্রিচ ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট করলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি।

৮৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ইন্টার মিলান তারকা পেরেসিচের হেড ডেনিস গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবারে প্রতিহত হলে একটুর জন্য উল্লাসে মাতা হয়নি কয়েকদিন আগেই আর্জেন্টিনাকে হারানো ক্রয়েটদের। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের দুই মিনিটের মাথায় রাকিতিচের লক্ষ্যভ্রষ্ট শট কেবল হতাশাই বাড়ায়। ম্যাচে আর কেউ গোল না পেলে ১-১ সমতায় থেকে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ করে দু’দল। দ্বিতীয়বারের মত একদিনে আরো একটি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালো।

অতিরিক্ত সময়ে খেলোয়াড়দের শরীরে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল। ৯৯ মিনিটে ডেনমার্কের স্কোন শট নিলেও সেটি বাইরে চলে যায়। পুরো ম্যাচের সবচেয়ে উত্তেজনাকর মুহূর্তটি আসে ১১৪ মিনিটের সময়। ডিবক্সের ভেতর গোলরক্ষক স্মাইকেলকে কাঁটিয়ে পুরো গোলমুখ উন্মুক্ত থাকলেও শট করার আগে রেবিচকে ফাউল করে বসেন ডেনমার্কের ইয়ার্গেনসেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু স্পট কিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেই সময়ে পেনাল্টি মিস করে বসেন গ্রুপ পর্বেই পেনাল্টিতে গোল করা মদ্রিচ।

শেষ মুহূর্তে আর কোন সম্ভাবনা তৈরি না হলে পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায় ম্যাচ। সেখানেও চলে রঙ বদলের খেলা। ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক সুবাসিচ অসাধারণ নৈপুণ্য দেখি ডেনিসদের তিনটি পেনাল্টি রুখে দেন। যেখানে পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলা ডেনিস গোলরক্ষক মাত্র দুটি পেনাল্টি সেভ করতে পারেন।

মূলত, ডেনমার্কের প্রধান খেলোয়াড় এরিকসেন পেনাল্টিতে গোল দিতে ব্যর্থ হওয়াতেই কিছুটা চাপে পড়ে গেছিল তারা। সেখান থেকে আর ফেরা হয়নি তাদের। ১৯৯৮ সালের পর আবারো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো ক্রোয়েটরা। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে স্পেনকে হারিয়ে ওঠা স্বাগতিক দেশ রাশিয়া।

sentbe-top