sentbe-top

চীনের স্ট্রাইকার শানশানের কীর্তি : বদলি হিসেবে নেমে ট্রিপল হ্যাটট্রিক

shanshanবিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে এশিয়ান গেমস খেলতে যাওয়া চীনের নারী ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ওয়াং শানশানের কীর্তি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন তিনি। সোমবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ১৬-০ গোলে তাজিকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে চীনের মেয়েরা, তাতে ৯ গোলই শানশানের। তা-ও মাত্র ২৯ মিনিটে! তাজিকিস্তানের মেয়েরা মনে মনে হয়তো এখন ভাবছেন, না নামলেই ভালো ছিল!

এমনই অবস্থা, চীনে তাঁকে আদর করে ‘৯ গোলের নায়িকা’ বলে ডাকা হচ্ছে। কেউ কেউ মজা করে এ-ও বলছেন, ২৮ বছর বয়সী শানশানকে চাইলে ছেলেদের দলেও খেলিয়ে দেওয়া যায়।

এভাবে বলার কারণ এশিয়ান গেমসে চীনের ছেলে ও মেয়েদের দলের গোলমুখে বৈপরীত্য। মেয়েরা যেখানে গোলবন্যায় ভাসিয়ে চলেছে প্রতিপক্ষকে, ছেলেদের গোলের পথে মরুভূমির শুষ্কতা। এক শানশানই তিন ম্যাচে করেছেন ১১ গোল, যা ছেলেদের পুরো দল মিলিয়ে তিন ম্যাচের গোলের সমান! তাজিকিস্তানের পাশাপাশি হংকং ও শক্তিশালী উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে গড়া গ্রুপে তিন ম্যাচে মেয়েদের দলের সব মিলিয়ে গোল ২৫ টি, একটি গোলও না খেয়ে দলটি উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

sentbe-adশানশানের এভাবে মুড়িমুড়কির মতো গোল করে চলাও এক বিস্ময়। এক সপ্তাহ আগেও চীনা মেয়েদের দলে গোলস্কোরিংয়ে পটুদের তালিকায় তাঁর নাম ওপরের দিকে ছিল না। ৪১ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তাজিকিস্তান ম্যাচটি বাদ দিলে বাকি ৪০ ম্যাচে তাঁর গোল মাত্র ১১ টি। অবশ্য এর কিছু কিছু দর্শনীয়। গত বছর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ব্যাকহিল ভলিতে যেভাবে গোল করেছিলেন, সেটি দেখে নাকি অনেকের মনে হয়েছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-লিওনেল মেসিরাও তেমন গোল করতে পারলে গর্বিত হতেন।

স্বাভাবিকভাবেই চারদিকে এখন চীনের ৯ গোলের দেবীর বন্দনা। নিজ দেশে ছেলেদের ফুটবল লিগের (চায়নিজ সুপার লিগ) অনেক আড়ালে অনাদরে পড়ে থাকা মেয়েদের লিগে খেলেন শানশান। তাঁকে নিয়েই দেশটির টেনচেন্ট স্পোর্টস পত্রিকার অনলাইনে লেখা, ‘গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ১১ গোল করে ওয়ান শানশান চীনের মেয়েদের ফুটবলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন।’

sentbe-top