cosmetics-ad

তিন বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দ. কোরিয়ার

সিউল, ১৮ জানুয়ারি ২০১৪:

নিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ পিছিয়ে পড়ায় দেশটিতে প্রবৃদ্ধি কমছে। নিম্ন প্রবৃদ্ধির এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে তিন বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে পূর্ব এশিয়ার দেশটি। খবর ইংলিশ নিউজের। কোরিয়ার অর্থমন্ত্রী হিয়ুন ও-সিউক অর্থনীতিবিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, নিম্ন প্রবৃদ্ধির ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। অর্থনীতির মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং কাঠামোগত সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে তিন বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনাটি গড়ে উঠেছে।

images

এশিয়ার বিকাশমান যেকোনো অর্থনীতির তুলনায় রফতানিনির্ভর এ দেশটি অনেক বেশি উন্নতি করেছে। টানা তিন বছর ধরে কোরিয়ার বাণিজ্যের আকার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু রফতানির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা, প্রবৃদ্ধি কৌশলে উদ্ভাবনের ঘাটতি, ভাড়ার ক্ষেত্রে জটিলতা ও অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চার কারণে দেশটির প্রবৃদ্ধিতে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে অর্থনীতি পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অনৈতিক চর্চা বন্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সৃজনশীল এ পরিকল্পনায় উদ্ভাবনী অর্থনীতির পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা ও রফতানিতে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দেয়া হবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

দেশটির সার্বভৌম ঋণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন, কোরিয়া ল্যান্ড অ্যান্ড হাউজিংসহ মোট ১২টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই ঋণের ভারে জর্জরিত। এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ ব্যবস্থাপনারও অভাব রয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় আর্থিক ব্যয়ের খাতগুলোকে আরো দক্ষ করার পাশাপাশি এবং এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বড় ও ছোট কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অর্থনীতির সুবিধাবঞ্চিত খাতগুলোয় আরো বেশি সহায়তা দেয়া হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির উত্তরণে শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিয়েন হাই প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পকে উত্সাহিত করে আসছেন। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক সংস্কারক হিসেবে পুনর্জন্ম হবে বলে বিশ্বাস করেন প্রেসিডেন্ট। পার্ক এরই মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির প্রথম এ নারী নেত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, যদি নির্ধারিত সময়ে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হয় তবে প্রবৃদ্ধি হার ৪ শতাংশে, কর্মী নিয়োগ ৭০ শতাংশে এবং মাথাপিছু জাতীয় আয় ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে।

এদিকে অর্গানাইজশেন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এক পূর্বাভাসে জানায়, দেশটির ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা এবং উত্পাদনশীল মানুষের সংখ্যা কমে আসায় আগামী ২৫ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের মতো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশের ঘরে থাকবে বলে জানিয়েছেন। সূত্রঃ বণিকবার্তা।